নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত সিংগাইর পৌরবাসী

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০৩

মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌরসভা। দেখলে মনে হবে না এটা একটি পৌরসভা। সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকেই বঞ্চিত পৌরবাসী। রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা। দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টির পানি জমে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে লোকজন। হাটবাজারেও একই অবস্থা। যতটুকু ড্রেন আছে সেটিও ময়লা-আবর্জনায় ভরা। কয়েক বছর আগে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে যে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে এখন তা বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। ভরাট হয়ে যাওয়া ড্রেনের পানি উপচে সড়কে পড়ছে। আবার যে স্থানে ঢাকনাবিহীন ড্রেন রয়েছে তা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। এমন কোনো দিন নেই যে ভাঙা ড্রেনে পড়ে মানুষ ও গবাদিপশু আহত না হচ্ছে।

পৌরসভার চারপাশেই রয়েছে ঝোপজঙ্গল আর বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি। ময়লা ফেলার ব্যবস্থা না থাকায় বাসাবাড়ির ময়লা যেখানে-সেখানে ফেলা হচ্ছে। অপরদিকে খাবার পানির অভাব মারাত্মক। পৌরসভার সাপ্লাইয়ের ঘোলা আর দূষিত পানি খেয়ে বিভিন্ন রোগে ভুগছে পৌরবাসী। এরপরও সব সময় পানি থাকছে না। কখনো কখনো রাতেরবেলায় ল্যাম্পপোস্টে বাতি জ্বলে না। স্বাস্থ্যসেবা নেই বললেই চলে। হাটবাজারেরও দুরবস্থা। এসব নাগরিক সুবিধা না থাকলেও প্রতি বছর মোটা অঙ্কের টাকা আর কর গুনতে হয় পৌরবাসীর। এদিকে পৌরবাসী পানি না পেলেও পানির বিল পরিশোধ করছে।  

ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ পৌরসভায় বসবাস করা দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে। মশামাছির উপদ্রপ আর ময়লা-আবর্জনায় অতিষ্ঠ পৌরবাসী। ময়লা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এ পানি রাস্তায় মিশে যাওয়ায় পথচারীদের হাঁটা দায়। উন্নয়ন কাজ না হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ বিল করছে ঠিকঠাক মতোই। ট্যাক্স দিয়ে যাচ্ছি সঠিক সময়। অথচ কোনো ধররের নাগরিক সুবিধা পাচ্ছি না।

মেয়র খোরসেদ আলম ভূইয়া জয় বলেন, সব কাজই প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু বাজেট না পাওয়ার কারণে কোনো কাজই করা যাচ্ছে না। এছাড়া আমাকে কোনো কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে আগের চেয়ে আমার সময়ে যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে।