রে জা উ ল ক রি ম খো ক ন
বলিউডে অভিনেত্রী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরুর পর প্রথম দিকে কয়েক বছর দুর্ভাগ্যের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে সোনম কাপুরকে। অভিনীত ছবিগুলো একের পর এক বক্স অফিসে ধরাশায়ী হয়েছে। তার সব পরিশ্রম বিফলে গেছে বারবার। ফলে হতাশায় ছেয়ে গেছে মন। নিজের ভবিষ্যত্ নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা, শঙ্কা বাসা বেঁধেছিল মনে। কিন্তু একসময় ভাগ্য সুপ্রসন্ন হতে শুরু করে। সাফল্য ধরা দেয় সোনমের হাতে। ‘রানঝানা’, ‘ভাগ মিলখা ভাগ’, ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’, ‘নিরজা’, ‘প্যাডম্যান’, ‘আই হেট লাভ স্টোরিজ’, ‘ভিরে ডি ওয়েডিং’, ‘সাঞ্জু’ ছবিগুলো তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ফ্লপ নায়িকার বদনাম ঘুচিয়ে বলিউডের ভালো অভিনেত্রীদের কাতারে তাকে নিয়ে গেছে ছবিগুলো। সোনম কাপুর এবার নিজেই তার অভিনীত নতুন সিনেমা ‘দ্য জোয়া ফ্যাক্টর’-এ একজন পয়মন্ত মেয়ে, অর্থাত্ সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে উপস্থিত হচ্ছেন। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ভারতীয় দলের জন্য পয়মন্ত কন্যা হিসেবে বিবেচিত এক তরুণী জোয়া সিং সোলাঙ্কির চরিত্রে রূপদান করেছেন তিনি। ২০০৮ সালে প্রকাশিত অনুজা চৌহানের লেখা উপন্যাস ‘দ্য জোয়া ফ্যাক্টর’ অবলম্বনে ছবিটির চিত্রনাট্য সাজানো হয়েছে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন সিনেমায় বিচিত্র চরিত্রে রূপদান করলেও আলোচ্য ছবিতে নিজের অভিনীত চরিত্রটি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত সোনম। বিয়ের পর আগের মতো অভিনয়ে ততটা ব্যস্ত না থাকলেও অভিনয় ছাড়তে পারেননি তিনি। এ বছরের শুরুতে সোনম অভিনীত ‘এক লাড়কি কো দেখা তো অ্যায়সা লাগা’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল। সেখানেও তাকে দেখা গেছে ভিন্ন ধাঁচের একটি চরিত্রে। সাধারণত ব্যতিক্রমধর্মী ভিন্ন ধারার ছবিতে যে ধরনের সাহসী বিষয় তুলে ধরা হয়, এ ছবিতে তেমনি সমকামিতার ব্যাপারটি দেখানো হয়েছে। মূল ধারার বাণিজ্যিক ছবি ‘এক লাড়কি কো দেখা তো অ্যায়সা লাগা’য় সোনম এমন এক তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন দ্বিধাহীনভাবে। এ কারণে প্রশংসিতও হয়েছেন তিনি। অভিনয়ের বাইরে বাস্তবজীবনেও সোনম সামাজিকভাবে সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন অনেকদিন থেকেই। বলিউডের ফ্যাশন আইকন হিসেবে তার নামটি আলোচিত ও উচ্চারিত হয় বেশ জোরেশোরেই। আজকের পর্যায়ে পৌঁছার ক্ষেত্রে সৌভাগ্যের চেয়ে নিজের পরিশ্রম, প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়কে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। ‘শুধু ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলেই চূড়ান্ত সাফল্য হাতে ধরা দেবেই, এমন মনে করি না আমি। একটি ফিল্মি পরিবারে জন্ম গ্রহণ করাটা হয়তো আমার সৌভাগ্য, তবে দিনে দিনে নিজেকে পরিণত ও যোগ্য করে তুলতে আমাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে, নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে হয়েছে। নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হয়েছে, অনেক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়েছে। সব কিছু প্রমাণ করেই আমি আজকের সোনম কাপুর হতে পেরেছি। শুধু সুপারস্টার বাবা অনিল কাপুরের মেয়ে হিসেবে পরিচয় দিয়ে বসে থাকলে আজ এতদূর আসতে পারতাম না, অতএব শুধু ভাগ্যের জোরে প্রতিষ্ঠা পাওয়া যায় না, যার প্রমাণ আমি। তাই বলব, সাফল্য পেতে ভাগ্য একটা ফ্যাক্টর হলেও এটাই চূড়ান্ত কিছু নয়। পরিশ্রম করতে হবে, যোগ্যতা থাকতে হবে, জীবনের নানা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে,’ সোনম কাপুর সাম্প্রতিক এক সাক্ষাত্কারে কথাগুলো বলেন। নতুন অভিনীত ছবিটি নিয়ে অনেকটাই আশাবাদী তিনি। দর্শক ছবিটি দেখে অন্যরকম আনন্দ পাবেন বলে ধারণা তার।
