চরম বিপাকে পড়েছে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইরাকের বিভিন্ন কোরিয়ান কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরা। বিশেষ করে হানুয়া ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরা দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে কাজ করেও এখন দেশে ফিরতে পারছেন না। কোম্পানিটি ইরাকের নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করে কর্মী নিয়োগ করার কারণে বাংলাদেশি কর্মীদের তার মাশুল দিতে হচ্ছে। কোম্পানিটির বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ইরাকের হানুয়া কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে বর্তমানে পাঁচ হাজারের মতো বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। ২০১৩ সাল থেকে কর্মরত এ সকল কর্মীর অনেকেই দীর্ঘদিন থেকে দেশে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কোম্পানিটি বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ইরাক সরকারের বিধিমালা মানেনি। ইরাকে কোনো বিদেশি কর্মীকে চাকরি দিতে হলে প্রত্যেক কর্মীর বিপরীতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ইরাক সরকারের কাছে জমা রাখতে হয়। যাতে কর্মীরা ইউরোপ বা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে যেতে না পারে। কিন্তু গত কয়েক বছরে হানুয়া কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ইরাক সরকারকে ফাঁকি দিয়ে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। এসব কর্মীদের বিপরীতে কোনো জামানত দেয়নি। হানুয়া কোম্পানির এই জালিয়াতির বিষয়টি ইরাক সরকারের নজরে আসার পর চুক্তির মেয়াদ শেষেও বাংলাদেশি কর্মীরা দেশে ফিরতে পারছেন না।
হানুয়া কোম্পানির এই অনিয়ম প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশ থেকে তাদের কর্মী নেওয়ার সুযোগ বাতিলের দাবি ওঠে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই সুযোগে তারা খুবই নিম্ন বেতনে আবারো বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার পাঁয়তারা করছে।
জানা গেছে, কোম্পানিটি বাংলাদেশ থেকে আরো কর্মী নেওয়ার জন্য ঢাকায় তাদের আগের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। গত এক বছরে হানুয়া কোম্পানির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসে তাদের এসব এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে দুই থেকে তিন হাজার কর্মীকে চাকরি প্রদানের নামে ইন্টারভিউ নিয়ে সিলেকশন দিয়েছে। কিন্তু ইরাক সরকারের নিয়ম-নীতি অমান্য করার কারণে এ সকল কর্মীকে নিতে পারেনি। অথচ তাদের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো এসব কর্মীদের জামানতের অর্থসহ পাসপোর্ট আটকে রেখেছে। যে কারণে অন্য কোনো দেশেও যেতে পারছেন না তারা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ইরাকে হানুয়া কোম্পানির এ ধরনের অনিয়মের কিছু অভিযোগ এসেছে। বাংলাদেশি কর্মীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে সরকার।
