পাটবাড়ি আশ্রমে নির্য্যান তিথী ও মেলা

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৪৪

কাজী শাহজাহান সবুজ

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা

 

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল সীমান্তের ঐতিহ্য হরিদাস ঠাকুরের পাটবাড়ি আশ্রম। প্রতিবছরের ন্যায়  এবারো এখানে হরিদাস ঠাকুরের নির্য্যান তিথী মহোত্সবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২ দিনের এ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বসেছিল মেলা। দেশ-বিদেশ থেকে আসা হাজার হাজার ভক্তের আগমনে মুখরিত  হয় এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠান চলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। কালের আবর্তে হরিদাস ঠাকুরের পাটবাড়ি আশ্রমটি আজ হয়ে উঠেছে  একটি দর্শনীয় স্থান। এখানে রয়েছে প্রায় ৬শ’ বছরের মাধবীলতা আর সুপ্রাচীন তমাল বৃক্ষ। আর এই তমাল বৃক্ষের  ছায়াতলে ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুরের পাটবাড়ি আশ্রম। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এ আশ্রমে হিন্দু সম্প্রদায়ের সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠান জাঁকজমকপুর্ণভাবে পালিত হলেও ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুরের জীবনী, ভাগবত আলোচনা, কীর্ত্তন, নির্য্যান লীলা আস্বাদন, ভক্তিগীতি ও পদাবলী কীর্ত্তন নিয়ে এখানে পালিত হয় নির্য্যান তিথী মহোত্সব। দেশের ৬৪টি জেলা এবং বিভাগীয় শহর থেকে শতশত গাড়ির বহরে হাজার হাজার ভক্তের সমাবেশ ঘটে এখানে। তাছাড়া এ সময় এখানে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ অন্যান্য দেশের ভক্তরাও যোগ দেন এ  অনুষ্ঠানে। এবার ভারতের উত্তর  ২৪ পরগনার গাইঘাটার কীর্ত্তন শিল্পী ছোট রাধা রানি সরকার কীর্ত্তন গেয়ে ভক্তদের মন জয় করেন। এ শিল্পী এক টানা গান পরিবেশন করেন ৬ ঘণ্টা। এবার নির্য্যান তিথী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব সুকুমার দেবনাথ জানান, সনাতন ধর্মের অন্যতম তীর্থস্থান  পাটবাড়ি আশ্রম নামে খ্যাত পূণ্যভূমি। ভক্ত এবং সাধু সন্যাসীদের শুভ আগমনে মুখরিত হয় এ আশ্রম। ১১ ও ১২  সেপ্টম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে এ অনুষ্ঠান।  তবে এবার ভক্তের সংখ্যাও আগে চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক ফণি ভূষণ পাল জানান, আশ্রমটি আজ দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠান এখানে স্বাধীনভাবে পালন করা হয়। আশ্রমের সভাপতি তাপস কর্মকার জানান, এ আশ্রমে দেশ-বিদেশ থেকে যে ভক্তরা আসেন তাদের এখানে থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থা করা হয়।