পাওনার দাবিতে তিন দিন ধরে কারখানায় শ্রমিকদের অবস্থান

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৪৮

অবরুদ্ধ গার্মেন্টস মালিক

ইত্তেফাক রিপোর্ট

রাজধানীর মিরপুরে চিড়িয়াখানা রোডের জারা জিনস নামে একটি গার্মেন্টস কারখানায় পাওনার দাবিতে গত তিন দিন ধরে কারখানায় অবস্থান করছেন শ্রমিকেরা। শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে কারখানার ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন মালিকও। সর্বশেষ গতকাল শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওনা পরিরেশাধ হয়নি। পাওনা পরিশোধের উপায় বের করতে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, স্থানীয় প্রশাসন ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক চলছিল। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, পাওনা পরিশোধ ছাড়া তারা কারখানা ছাড়বেন না।

কারখানার শ্রমিক ও বিজিএমইএর নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, কারখানটিতে দুই মাসের বেতন বকেয়া পড়েছে। কারখানাটিতে প্রায় ১ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। তাদের পাওনা বাবদ ২ কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু কারখানার মালিক ঐ টাকার সংকুলান করতে পারেননি। মেশিনপত্র বিক্রি করে টাকার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিলেও তা সম্ভব হয়নি।

কারখানায় অবস্থান নেওয়া শ্রমিক বিথি হালদার ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা কারখানার ভেতরে ৬৫০ জন শ্রমিক তিন দিন ধরে অবস্থান করছি। কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে গেছেন। আজ (গতকাল বুধবার) টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ বেলায় এসে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বেতনের সমাধান না করে এখান থেকে যাব না।’  বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ফয়সাল সামাদ বলেন, ‘ইস্যুটি সমাধানের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। তহবিলের ব্যবস্থা করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) নাগাদ একটি সমাধানে পৌঁছাতে পারব।’

শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ আগে পাওনা পরিশোধের কথা থাকলেও মালিকপক্ষকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পরবর্তীতে উত্তরার দিয়াবাড়ী এলাকায় অবস্থিত বিজিএমইএ ভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে দ্রুত সমাধানে বিজিএমইএ নেতাদের আশ্বাসে তারা সেখান থেকে চলে আসেন। কিন্তু এক সপ্তাহেও সমাধান মেলেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে চলছিল। এ সমস্যা সামনে আসে গত রোজার ঈদের পাওনা পরিশোধ-সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে। এর আগে কারখানাটি এক বছরের ব্যবধানে বড়ো দুটি ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ায় এই সমস্যায় পড়েছে। ঐ ক্ষতি আর পুষিয়ে নিতে পারেনি। অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত ক্রয়াদেশও পাচ্ছিল না। সব মিলিয়ে সংকটে পড়ে গেছে কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।