এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল
স্পোর্টস রিপোর্টার
এএফসি অনূর্ধ্ব—১৬ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে এক ম্যাচ হাতে রেখে গ্রুপ পর্ব হতে বাংলাদেশ বিদায় হয়ে গেছে। গতকাল থাইল্যান্ডের চুনবুরী স্টেডিয়ামে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশ ০-৯ গোলে শক্তিশালী জাপানের কাছে হেরেছে। প্রথম খেলায় থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ হেরেছিল ১-০ গোলে। দুই হারে ৬ পয়েন্ট হারালো বাংলাদেশ। এখন পয়েন্ট টেবিলে চার দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সবার নিচে।
জাপান ৯ গোল করলেও হ্যাটট্টিক নেই। প্রথমার্ধেই ৫ গোল। তবে যেভাবে ৯ গোল হজম করেছে এমন বাংলাদেশ নয় এটি। এই মেয়েরা অনুশীলন মাঠে পরিশ্রম করে নিজেদের অনেক বেশি মেধাবী করে তুলেছেন। কিন্তু যেভাবে গোল হজম করেছে তা দেখে মনে হয়েছে প্রথমবার খেলতে নেমেছে। ভুল পাসের ফুটবল দেখা গেছে। জাপানি কিশোরীরা ৯ গোল করলেও কোনো পরিশ্রমই করতে হয়নি। গোলগুলো যেন বাংলাদেশের কিশোরীরা জাপানকে উপহার দিয়েছে। নিজেদের ছোটো ছোটো ভুলগুলো বড়ো বিপদ ডেকে এনেছে। দুই গোল খাওয়ার পর মারিয়াদের খেলা দেখে মনে হলে তারা নার্ভাস।
বাংলাদেশের শেষ খেলা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। পরবর্তী ম্যাচে হার জিতের কোনো হিসাব কাজে আসবে না। তবে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও বড়ো হারের আশঙ্কা রয়েছে। গ্রুপের শীর্ষে জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া। জাপান গোল গড়ে এগিয়ে থাকায় অস্ট্রেলিয়ার জন্য দুশ্চিন্তা। তাই গোল সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া খুব সোচ্চার থাকবে।
এবার নিয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব—১৬ ফুটবলে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বার খেলছে। আগামী বছর ভারতের অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব—১৭ বিশ্বকাপের এশিয়া অঞ্চলের বাছাইয়ের গত আসরে জাপানের বিপক্ষে বাংলাদেশ হেরেছিল ৩-০ গোলে। এবার বড়ো ব্যবধানে হারলো। কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন খেলা শেষে চুনবুরির মাঠে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন এতো বড়ো ব্যবধানে হারবেন তিনি সেটা বুঝতে পারেননি। ছোটন বলেছেন, ‘এটা অপ্রত্যাশিত।’ জাপান, অস্ট্রেলিয়া কিংবা থাইল্যান্ডের কাছে হারবে বাংলাদেশ এটা অজানা ছিল না। প্রতিপক্ষ তিন দলের তুলনায় থাইল্যান্ড কম শক্তির দল। জিততেও পারে, সাধারণ আলোচনায় এমন কথা শুনে সাবেক তারকা স্ট্রাইকার শেখ মোঃ আসলাম পালটা প্রশ্ন করে বললেন, ‘থাইল্যান্ড সম্পর্কে ধারণা আছে ? থাইল্যান্ড শক্তিশালী দল। এতো কোনো ভুল নেই। তবে ফুটবল বাস্তবতায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। মারিয়া মান্ডা, আঁখী খাতুন, রূপনা চাকমা, মনিকা, নাজমা, আনুচিং, তহুরা খাতুনরা নিজেদের সর্বচ্চোটা দিয়ে লড়াই করছেন। এ ধরনের বড়ো আসরে যেসব প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই করতে হয় এই দেশগুলো এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন অথবা রানার্সআপ। জাপান বর্তমান তৃতীয় স্থানের দল।
২০১৭ সালে প্রথমবার যখন লড়াই করে বাংলাদেশ, তখন প্রথম খেলায় উত্তর কোরিয়ার কাছে ৯-০ গোলে হার দিয়ে শুরু করেছিল। জাপানের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩-২ গোলে হারে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াইয়ে বাংলাদেশের খেলা সবার নজর কেড়ে ছিল। একটা ইনজুরির কারণে খেলোয়াড় পরিবর্তন করতে হয় সেই সঙ্গে বাফুফের টেকনিকেল ডাইরেক্টর অস্ট্রেলিয়ান পলস্মলীর ভূমিকাও খুব একটা ভালো ছিল না।
