মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা
রাজশাহীর গোদাগাড়ীর চর অঞ্চলে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধিতে ভাঙন আরো তীব্র হচ্ছে। এক সপ্তাহে ছয়টি গ্রামের ৭০টি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীর পাড়ের বসবাসকারীরা আতঙ্কিত হয়ে বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছেন।
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুদ রানা উজ্জ্বল বলেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পদ্মার পানি কমে যাওয়ার ফলে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে করে চর বয়ারমারী আমিনপাড়া গ্রামের ৩৫টি বাড়িঘর সম্পূর্ণ পদ্মা নদীতে বিলীন হয়েছে। গ্রামটির আরো ১৫টি বাড়ি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।
নদীর তীর থেকে ৫০ গজ দূরে রয়েছে দিয়াড় মানিকচক বোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র (ফ্লাড সেন্টার)। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল লতিব বলেন, ভাঙন অব্যাহত থাকলে আর কয়েক দিনের মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বিদ্যালয়ের ভবন ও ফ্লাড সেন্টার। চর আষারিয়াদহ ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত ডেঙ্গাপাড়া , আমিন পাড়া, আদর্শ গ্রাম-১ (অধিকাংশ), ও নিচু বয়ারমারি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং আরো বেশকিছু গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ভাঙনে ওই গ্রামগুলোর শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পদ্মা নদীর ভাঙনে দিশেহারা গোদাগাড়ীর চরাঞ্চলের মানুষ। আষারিয়াদহ ইউনিয়নের ডেঙ্গাপাড়ার সিরাজুল ইসলাম, আমিনপাড়ার এরফান আলী, আদর্শ গ্রাম-১ ও নিচু বয়ারমারীর মুনসুর রহমানসহ আরো বেশকিছু মানুষের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত হাজার হাজার বিঘা ফসলি ও বসতভিটার জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
দিয়াড়মানিকচক বোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বজলুর রশিদ বলেন, ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস বরাবরে আবেদন করেছি। এ বিদ্যালয়টিতে সবমিলে ৪০০ জন ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করে। তিনি আরো বলেন, আমরা এখন খুবই আতঙ্কের মধ্যে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাস নিচ্ছি।
আষারিয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, আমার ইউনিয়ন পদ্মা নদীর ভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে থাকতে হয় হতদরিদ্র মানুষের। এবার বর্ষার শুরুতেই নদীরপাড়ে বেশি ভাঙন দেখা দেয়ায় চরম হুমকির মুখে পড়েছে দিয়াড়মানিকচক বোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি গ্রাম। এতে করে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে লোকজন।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম বলেন, চর আষারিয়াদহ ইউনিয়নের দিয়াড় মানিকচক প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বাড়িঘর ও ফসলি জমি জন্য তেমন কোনো বরাদ্দ নেই।
