ভয়াবহ যানজটে নাকাল মানিকগঞ্জ পৌরবাসী

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০৭

ভয়াবহ যানজটে নাকাল মানিকগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দারা। বিল্ডিং কোড না মেনে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, লাইসেন্সবিহীন হ্যালোবাইকের আধিপত্যসহ নানাবিধ কারণে মানিকগঞ্জ শহরে দিন দিন যানজট বাড়ছে।

শহরের একটি মাত্র প্রধান সড়ক, যা শহীদ রফিক সড়ক নামে পরিচিত। এ রাস্তার দুই পাশে গড়ে ওঠা বেশিরভাগ ভবনের প্রাথমিকভাবে পৌরসভার অনুমোদন থাকলেও তারা পরে বিল্ডিং কোড না মেনেই বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। ফলে বহুতল ভবনে থাকা মার্কেট, অফিস ও অ্যাপার্টমেন্টের সমস্ত গাড়ির পার্কিংয়ের জন্য রয়েছে মাত্র ১৮ ফুট রাস্তা। ফলে রাস্তার একটি অংশ চলে গেছে বহুতল ভবনের গাড়ি পার্কিংয়ে।

মানিকগঞ্জ পৌরসভায় মাত্র ৫ শতাধিক লাইসেন্সকৃত হ্যালোবাইক থাকলেও অদৃশ্য কারণে চলছে প্রায় ২ হাজারের ওপরে। তাদের যত্রতত্র পার্কিং নগরীর যানজটকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। শহরের প্রবেশদ্বারে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সওজের সড়কের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে বিভিন্ন পরিবহনের ছোটো-বড়ো গাড়ি। অবৈধভাবে যত্রতত্র পার্ক করে রাখা এসব গাড়িতে যাত্রী ওঠানো-নামানো হচ্ছে। এতে যানজট আরো বেড়ে যাচ্ছে। দুর্ঘটনায় যাত্রীদের হতাহত হওয়ার ঝুঁকি তো রয়েছেই। রাস্তার ধারের ফুটপাত চলে গেছে ভ্রাম্যমাণ দোকানদারদের দখলে। এতে করে পথচারীদের হাঁটার জায়গা সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় তারা রাস্তায় চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। আর তা যানজট বৃদ্ধিতে আরো অবদান রাখছে।

এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করেন, পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা এবং শহরের হ্যালোবাইকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। তবেই শহরকে সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) আম্বিয়া খান জানান, ‘আমরা শহরে যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। জনগণ সচেতন না হলে আমাদের একার পক্ষে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।’ এ বিষয়ে পৌর মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।