ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেশটির সর্বোচ্চ থিংক ট্যাংক ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন ফর ট্রান্সফরমিং ইন্ডিয়া’র উপদেষ্টা, গবেষক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অর্থশাস্ত্রকে একটি সত্যিকার সামাজিক বিজ্ঞানে পরিণত হতে হলে ‘তিন শূন্য’—অর্থাত্ শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নিট কার্বন নিঃসারণের পৃথিবী গড়ে তোলার পথ অনুসন্ধান করতে হবে। ভারত সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে নীতি নির্ধারণকারী ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন ফর ট্রান্সফরমিং ইন্ডিয়া’র আমন্ত্রণে ড. ইউনূস নয়াদিল্লি সফরে গিয়ে গত সোমবার একথা বলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা অমিতাভ কান্তর নেতৃত্বাধীন সংস্থাটি ‘নীতি আয়োগ’ নামে বহুল পরিচিত।
প্রফেসর ইউনূস তার বক্তব্যে সম্পদ কেন্দ্রীকরণ, বেকারত্ব ও পরিবেশ—এই তিন বিষয়ে তার উদ্বেগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পুরোনো পথ আমাদের শুধু পুরোনো গন্তব্যেই নিয়ে যেতে পারে। তিনি আরো বলেন যে, ভারতে ক্ষুদ্রঋণের বিকাশের যে গতি তাতে আগামী পাঁচ বছরে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সদস্যসংখ্যা ২০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে এবং ঋণের স্থিতি এ সময়ে দ্বিগুণ হয়ে যাবে। ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণের অভিঘাত পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে। তিনি ক্ষুদ্রঋণের সঙ্গে যুক্ত নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদেরকে আর্থিক খাতের বাইরে অন্য খাতগুলো প্রসারিত করতে আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে এসব খাতের বিকাশের উদাহরণ তুলে ধরেন।
