দল নির্বাচন নিয়ে ফারুকের প্রশ্ন

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৫৩

বিশ্বকাপের পর থেকে ‘অস্থির’ একটা দলের ছবি বয়ে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশ দল। দেশের মাটিতেও মাঠের ক্রিকেটে ধুঁকছেন ক্রিকেটাররা। সাফল্যের স্বল্পতা সময়টাকে আরো কঠিন করে তুলেছে। নির্বাচকরাও দিশেহারা হয়ে যাচ্ছেন। তাদের কর্মকাণ্ডে অস্থিরতার ছাপ স্পষ্ট। দলে পরিবর্তন হচ্ছে যখন-তখন। জাতীয় দলে ক্রিকেটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলটা দীর্ঘ হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজেই বাংলাদেশ দলে পরিবর্তন এসেছে দুইবার। সিরিজের শুরুতে ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করা হয়। এক ম্যাচ পরই দলে আনা হয় পেসার আবু হায়দার রনিকে। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে দলের দ্বাদশ ক্রিকেটারের ভূমিকা পালন শেষে ছিটকে পড়েন বাঁহাতি এই পেসার।

দ্বিতীয় ম্যাচ পরই দলে ডাকা হয় তিন তরুণকে। কোনো আহামরি পারফরম্যান্স ছাড়াই নাজমুল হোসেন শান্ত, নাঈম শেখ, আমিনুল ইসলাম বিপ্লবরাও সুযোগ পেয়ে যান জাতীয় দলে। গত বুধবার অভিষেক হয়ে যায় শান্ত-বিপ্লবের। সর্বোপরি দল নির্বাচনে বিচক্ষণতার পরিচয় দেখা যাচ্ছে না।

সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ গতকাল বলেছেন, বর্তমানে দল নির্বাচনের কাজটা ঠিকভাবে হচ্ছে না। নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নির্বাচকদের কাজই অস্থিরতা তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বর্তমানে জাতীয় দলের নির্বাচক হিসেবে কাজ করছেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশার। এরা দুজন ফারুকের অধীনেও নির্বাচক ছিলেন। তার বিদায়ের পরই প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন নান্নু। সাবেক সহকর্মীদের কাজ নিয়ে কঠোর সমালোচনামুখর দেখা গেল ফারুককে।

গতকাল চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে নির্বাচকদের কাজ সম্পর্কে ফারুক আহমেদ বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় নির্বাচনের দায়িত্ব এমন কাউকে দিতে হবে যে, নিজের একটা জবাবদিহিতা তৈরি করতে পারে। মানে কেউ যখন সুযোগ পেল তাহলে কেন সুযোগ পেল বা কেউ বাদ পড়লে কেন বাদ পড়ল- এই ব্যাখ্যা কিন্তু সাম্প্র্রতিক সময়ে আমরা খুব একটা দেখতে পাই না। আর দল হারলে যে অস্থিরতা তৈরি হয় সেটাও কাম্য না। যেহেতু আমরা নির্বাচনের কাজ ভালোমতো করছি না, তাই অস্থিরতা খুব সহজেই হয়ে যায়। একটা-দুইটা ম্যাচ খারাপ করলে মনে হয় ঠিক হচ্ছে না, আবার অনেক ধরনের পরিবর্তন।’

জাতীয় দলে ক্রিকেটারদের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফারুক। জাতীয় দলের এই সাবেক অধিনায়ক গতকাল বলেছেন, ‘এখন মনে হয় টিমে অনেক নির্বাচক। আমি জানি না যে কয়জন দল নির্বাচন করে। ২-৩ জনের যদি একটা নির্বাচক প্যানেল থাকে ওরা কোনো ক্রিকেটারকে বুঝে-শুনে দলে নিতে পারবে।’

ঘন ঘন পরিবর্তন দলের ভারসাম্য বিনষ্ট করে বলে মনে করেন ফারুক। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘ইদানিং দেখা যায়, একটা ক্রিকেটারকে এক ম্যাচ খেলিয়ে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। এতে পুরো দলের ভারসাম্য নষ্ট হয়।’

নান্নু-হাবিবুলরা ক্রিকেটার চিনতেও ভুল করছেন বলে মনে করেন ফারুক। সাবেক এই প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘কোনো ক্রিকেটারকে কোন ফরম্যাট দিয়ে শুরু করব সেটাও আমরা বুঝতে পারছি না। যেমন—নাজমুল হোসেন শান্ত। ছেলেটা প্রতিভাবান। কিন্তু কোন ফরম্যাট দিয়ে শুরু করে ওকে মানিয়ে নিয়ে আরেক ফরম্যাটে আনা হবে, সেটাই আমরা করতে পারছি না।’