লেগ স্পিন, ক্রিকেট দুনিয়ার এক দুর্লভ শিল্প। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি হাহাকার পরিলক্ষিত হয়েছে লেগ স্পিন নিয়ে। হন্যে হয়ে খুঁজলেও লেগ স্পিনাররা বরাবরই বাংলাদেশে অনেক অযত্ন-অবহেলায় লালিত হন।
দেশের প্রথম লেগ স্পিনার ওয়াহিদুল হক গণি ওয়ানডে খেলেছিলেন একটি। নেটে বোলিং করে জাতীয় দলে আসা জুবায়ের হোসেন লিখন হারিয়ে গেছেন অল্প সময়ের মধ্যেই। এখন আবার নেটেই বোলিং করতে দেখা যায় তাকে।
মূলত ব্যাটসম্যান হলেও শখের লেগ স্পিনার তানভির হায়দার ছিটকে পড়েছেন এক সিরিজ পরেই। এবার লেগ স্পিনার কোটায় দলে আসলেন তরুণ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। তিনিও মূলত ব্যাটসম্যান।
যদিও ত্রিদেশীয় সিরিজে গত বুধবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার অভিষেকটা খারাপ হয়নি। ১৮ রানে তিন উইকেট পাওয়া বিপ্লবের মাঝে ভরসা খুঁজছেন অনেকে। বুধবার ম্যাচের পর মাহমুদউল্লাহ প্রশংসায় ভাসিয়েছেন এই তরুণকে।
অগ্রজ লেগ স্পিনারদের পরিণতিটা জানা আছে বিপ্লবের। গতকাল টিম হোটেলে এই তরুণ জানিয়েছেন, হারিয়ে যেতে চান না তিনি। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ক্রমাগত উন্নতি করার টার্গেট বিপ্লবের। ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচেই অবশ্য ইনজুরির দুর্ভাগ্য নেমে এসেছে শরীয়তপুরের এই তরুণের ওপর।
সাগরিকায় বুধবার মাসাকাদজার তীব্রগতির শট ঠেকাতে গিয়ে বাঁ হাতের তালু ফেটে যায় তার। ম্যাচ শেষে হোটেলে ফিরে রাত ১২টার পর ব্যান্ডেজ করা হয়েছে বিপ্লবের হাত। গতকাল দুপুরে হোটেলের লবিতে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই তরুণ জানিয়েছেন, তার হাতে সেলাই পড়েছে তিনটি। ব্যথা কমেছে। বোলিং হ্যান্ডে না হলেও এই ইনজুরির পর আগামীকাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলা হচ্ছে না তার।
লিখন-তানভিরদের পরিণতি এড়াতে করণীয় সম্পর্কে গতকাল এই তরুণ বলেছেন, ‘আমি মনে করি আত্মনিয়ন্ত্রণ অনেক বড়ো জিনিস। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি দেখেছি আগে কারা কে কী করেছে। চেষ্টা থাকবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে ডে বাই ডে উন্নতি করার চেষ্টা করব। ম্যাচ বাই ম্যাচ ভালো করার চেষ্টা করব।’
যুব বিশ্বকাপ খেলার পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানে খেলেছেন বিপ্লব। সেখানেই কোচ সোহেল ইসলাম কাজ করেছেন তার বোলিং নিয়ে। গতকাল সোহেল ইসলামও বলছিলেন, এখন অবধি বিপ্লবের শক্তি তার স্টক বল ও অ্যাকুরেসি।
মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান থেকে লেগ স্পিনার হওয়ার গল্পটা শুনিয়েছেন বিপ্লব। গতকাল তিনি বলেন, ‘আসলে আমি ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বোলিং করতাম। মাঝে অনেক দিন বিরতি গেছে বোলিংয়ে। কাঁধের ইনজুরির কারণে বোলিং করতে পারতাম না। ইনজুরিটা প্রিমিয়ার লিগের সময় হয়েছিল। কাঁধের ইনজুরি সেরে ওঠার পর কোচ সাইমন হেলমট আমার বোলিং নিয়ে কাজ শুরু করে। ওয়াহিদুল গনি স্যারের সঙ্গে কাজ করেছি। এর আগে সোহেল স্যারের সঙ্গে কাজ করেছি কীভাবে বোলিং উন্নতি করা যায়।’
এইচপির কোচ হেলমটের সুপারিশেই আকস্মিকভাবে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ জাতীয় দলে ডাক পান বিপ্লব। সেটা হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর ইচ্ছাতেই। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের ম্যানেজার সাব্বির খানের ফোনেই স্বপ্নপূরণের খবরটা জেনেছিলেন বিপ্লব। খবরটা শোনার পর নির্ঘুম রাত কেটেছে তার।
গতকাল তিনি বলেছেন, ‘সাব্বির ভাই আমাকে ফোন দিয়ে জানায় যে, অভিনন্দন তোমাকে, জাতীয় দলে ডাকা হয়েছে। রাতে তখন ঘুমাতে পারিনি। প্রথমবারের মতো তো।’
