দেশি মুরগি পালনে আগ্রহ বাড়ছে

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০৪

আবুল কাসেম ভূঁইয়া

 

অপেক্ষাকৃত দাম বেশি এবং ব্যাপক চাহিদা থাকায় দেশি মুরগি পালনে অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠছেন। খামারে উত্পাদিত ব্রয়লার, লেয়ার, সোনালি, কক মুরগির ব্যাপারে দেশের মানুষের আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে। ব্রয়লার মুরগিতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর উপাদান থাকার কথা প্রচারিত হওয়ার পর ব্রয়লার মুরগি এখন কেউ খেতে চাইছে না। সবাই এখন দেশি মুরগির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। চাহিদা বাড়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে দেশি মুরগির খামার গড়ে উঠছে। দেশি মুরগি পালন তেমন কোনো কঠিন ব্যাপার নয়। খামারে উত্পাদিত মুরগির মতো দেশি মুরগি পালন করা যায়। যদিও দেশি মুরগির উত্পাদন কম হলেও বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে মুরগির উত্পাদন দ্বিগুণেরও বেশি পাওয়া সম্ভব। গবেষণা করে দেখা গেছে, দেশি মুরগির ডিমের উত্পাদন বৃদ্ধি করে বাজারে বিক্রি করার চেয়ে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা তৈরি করে ৮-১২ সপ্তাহ বয়সে বিক্রি করলে লাভ বেশি হয়।

দেশি মুরগির খামার স্বল্প পরিসরে করতে চাইলে প্রথমে একসঙ্গে ১০-১২টি মুরগি নিয়ে পালন শুরু করতে হয়। তবে কখনো ১৫-১৬টির বেশি নেওয়া ঠিক হবে না। তাতে অনেক অসুবিধাই হয়। শুরুতে মুরগিগুলোকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোর পর রানীক্ষেত রোগের টিকা দিতে হবে। মুরগির গায়ে উকুন থাকলে তাও মেরে নিতে হবে। প্রতিটি মুরগিকে দিনে ৫০-৬০ গ্রাম হারে সুষম খাদ্য দিতে হবে। আজকাল বাজারে লেয়ার মুরগির জন্য যে সুষম খাদ্য পাওয়া যায় তা দিলেই হবে। তাছাড়া আবদ্ধ পদ্ধতিতে দেশি   মুরগি পালন করলে লাভ বেশি হয়। মুরগির     সঙ্গে অবশ্যই একটি বড়ো আকারের মোরগ  থাকতে হবে। তা নাহলে ডিম ফোটানো যাবে না। ডিম পাড়া শেষ হলে মুরগি ওমে আসবে। তখন ডিম দিয়ে বাচ্চা ফোটানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একসঙ্গে একটি মুরগির নিচে ১২-১৪টি ডিম বসানো যাবে।

দেশীয় মুরগির জন্য খামারের আদলে ঘর নির্মাণ করতে হবে। ওমে বসানো মুরগির পরির্চযা করতে হবে। মুরগির সামনে পাত্রে সব সময় খাবার ও পানি দিয়ে রাখতে হবে, যাতে সে ইচ্ছে করলেই খেতে পারে। তাহলে মুরগির ওজন হ্রাস পাবে না। মা-মুরগির খাবারের সঙ্গে বাচ্চার খাবারও কিছু আলাদা করে দিতে হবে। বাচ্চাগুলো মায়ের            সঙ্গে খাবার খাওয়া শিখবে। ধীরে ধীরে বাচ্চাগুলোকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে দিতে হবে। বাচ্চাগুলোকে যত্নের সঙ্গে লালনপালন করতে হবে।

দেশি মুরগি ডিম পাড়ার জন্য ২০-২৪ দিন সময় নেয়। ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য ২১ দিন সময় নেয়। বাচ্চা লালনপালন করে বড়ো করে তোলার জন্য ৯০ থেকে ১১০ দিন সময় নেয়। ডিম থেকে এভাবে বাচ্চা বড়ো করা পর্যন্ত একটি দেশি মুরগির উত্পাদন চক্র করতে স্বাভাবিকভাবে ১২০-১৩০ দিন সময় লাগে। কিন্তু মাকে বাচ্চা থেকে আলাদা করার ফলে এই উত্পাদন চক্র ৬০-৬২ দিনের মধ্যে সমাপ্ত হয়। বাকি সময় মুরগিকে ডিম পাড়ার কাজে ব্যবহার করা যায়। এই পালন পদ্ধতিকে ক্রিপ ফিডিং বলে। ক্রিপ ফিডিং পদ্ধতিতে বাচ্চা পালন করলে মুরগিকে বাচ্চা পালনে বেশি সময় ব্যয় করতে হয় না। ফলে ডিম পাড়ার   জন্য মুরগি বেশি সময় দিতে পারে। এই পদ্ধতিতে বাচ্চা ফোটার সংখ্যা বেশি হয়।

মোট কথা, অনেক দিক দিয়ে লাভবান হওয়া যায়। এই পদ্ধতি বর্তমানে অনেকে ব্যবহার করে লাভবান হচ্ছেন। দেশি মুরগি পালনে ঝুঁকি কম। দেশি মুরগির দাম একটু বেশি হওয়ায় মুরগি বিক্রি করে বেশি লাভ পাওয়া যায়। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেকার যুবকরা দেশি মুরগির খামার গড়ে তুলতে এগিয়ে আসছে।