জান-ই-আলম, চট্টগ্রাম থেকে
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পরিকল্পনা মিটিংয়ে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফদের প্রস্তাব ছিল একজন পেসার অন্তত একাদশে রাখা হোক। কোচদের সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। স্পিনারদের নিয়েই বোলিং আক্রমণ গড়ার পক্ষে ছিলেন তিনি। যদিও চট্টগ্রামে আফগানদের বিরুদ্ধে চার স্পিনার নিয়ে খেলার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বুমেরাং হয়েছে। সাগরিকায় আফগানিস্তানের কাছে টেস্টে গ্লানির হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল সাকিব বাহিনীকে।
টেস্টের পর টি-টোয়েন্টিতে আফগানদের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে আধিক্য ছিল স্পিনারদের। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ঐ ম্যাচেও হারের হতাশা সঙ্গী হয়েছিল বাংলাদেশের।
ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশ-আফগানিস্তানের লড়াইটা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ফাইনালের আগে আফগানদের আরেকবার দেখার সুযোগ পাচ্ছে স্বাগতিকরা। আজ লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে রশিদ খানের দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে সাকিব বাহিনী।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ ফাইনালের মহড়ায় বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে পরিবর্তন আসছে। স্পিন নির্ভরতা ছেড়ে পেসারদের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ। গতকাল বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, আজ বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে পেসারদের আধিক্য থাকবে। অন্তত চার জন পেসার একাদশে থাকতে পারেন।
সূত্র জানায়, আমিনুল বিপ্লব খেলতে পারবে না। ওরা (আফগান ব্যাটসম্যানরা) স্পিন ভালো খেলে। তাই বাংলাদেশ চার জন পেসার নিয়ে খেলবে।
গত ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে তিন পেসার খেলিয়েছিল বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শফিউল ইসলামরা ছিলেন একাদশে। আজ তাদের পাশাপাশি একাদশে দেখা যেতে পারে রুবেল হোসেনকে। লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ইনজুরিতে পড়ায় আজ খেলতে পারছেন না। তার জায়গায় স্পিনার না নিয়ে একাদশে একজন পেসার বাড়ানোর পরিকল্পনাই করছে বাংলাদেশ।
ত্রিদেশীয় সিরিজে সাগরিকায় ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে হালকা ডিউ পড়ছে বলে স্পিনারদের বল গ্রিপ করতেও কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে পেসাররা ভালো সমাধান হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য।
তাছাড়া আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানরা বরাবরই স্পিনের বিপক্ষে ভালো ব্যাট করেন। টেস্টে যার প্রমাণ মিলেছে। একাদশে পেসার বাড়িয়ে আফগান ব্যাটসম্যানদেরকেও চ্যালেঞ্জ জানানোর সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। গত ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পেসাররা ছয়টি উইকেট নিয়েছিলেন। শফিউল তিনটি, মুস্তাফিজ দুটি, সাইফউদ্দিন একটি করে উইকেট পান। শফিউলদের সাফল্যই টিম ম্যানেজমেন্টকে সাহস যোগাচ্ছে একাদশে আরেকজন পেসার বাড়ানোর সিদ্ধান্তে।
দুই বছর পর টি-টোয়েন্টি একাদশে ফিরে গত ম্যাচে ভালোই করেছেন শফিউল। আফগানদের বিপক্ষে একাদশে পেসার বাড়ালে ভালো হবে কি না জানতে চাইলে গতকাল ডানহাতি এই পেসার বলেছেন, ‘এটা টিম ম্যানেজমেন্ট চিন্তা করবে। স্পিনাররা খেলুক বা পেসাররা খেলুক সে যদি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো জায়গায় বল করে তাহলেই ভালো হবে।’
তবে পেস বোলিং ইউনিট হিসেবে নিজেদের সেরাটা দিতে চান শফিউল। ১৩টি-টোয়েন্টিতে ১১ উইকেট পাওয়া এই পেসার গতকাল বলেছেন, ‘টিম ম্যানেজমেন্ট যদি চিন্তা করে পেস বোলার খেলাবে, আবার তাদের মনে হলে স্পিনার খেলাবে। যেই খেলুক আমরা চাই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্যে। পেস বোলিং ইউনিট হিসেবে আমরা যেন সেরাটা দিতে পারি, এটাই সবার লক্ষ্য থাকবে।’
নবি-নাজিবউল্লাহদের বিপক্ষে পেস নির্ভর বোলিং আক্রমণ ভালো ব্যাপার হতেই পারে। শফিউল-মুস্তাফিজরা ভালো করলে আজ সাগরিকায় আফগান বাধাও টপকাতে সমর্থ হবে বাংলাদেশ।
