আলোকপাত

পরিবহন সংকটে চট্টগ্রাম শহর

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:৪২

আবুল কাসেম ভূঁইয়া

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী চট্টগ্রামের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। দেশের প্রধান নৌবন্দর চট্টগ্রামে অবস্থিত। ব্যবসায়-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানার জন্য চট্টগ্রামের গুরুত্ব রয়েছে। বিভিন্ন কারণে চট্টগ্রাম নগরী ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে চট্টগ্রাম নগরীর জনসংখ্যা। বর্তমানে চট্টগ্রামের বিশাল জনসংখ্যা প্রতিদিন পরিবহন সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম শহরে নগরবাসীর জন্য বিভিন্ন রুটের বাস সার্ভিস রয়েছে। এসব বাস সার্ভিস দিয়ে নগরবাসীর প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। যাত্রীদের তুলনায় বাস সার্ভিস কম হওয়ার কারণে প্রতিদিন যাত্রীসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম শহর এলাকায় বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসের মধ্যে ১ নম্বর থেকে শুরু করে ১১ নম্বর রুট পর্যন্ত বাস সার্ভিস রয়েছে। চট্টগ্রাম শহর এলাকায় চলাচলকারী বাস সার্ভিসগুলো অধিকাংশই অতিপুরোনো লক্কড়ঝক্কড় মার্কা বাস। এসব বাসে ঠাসাঠাসি করে যাত্রী ওঠানো হয়। মেট্রো প্রভাতী নামে একটি মাত্র স্পেশাল বাস সার্ভিস রয়েছে। এই বাসে সিট ক্যাপাসিটি যাত্রী ওঠানোর কথা থাকলেও প্রায় সময় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে থাকে। অন্যান্য বাস সার্ভিসের চেয়ে এরা দ্বিগুণ ভাড়া নিলেও যাত্রীরা এদের কাছ থেকে উন্নত সেবা পায় না। ইদানীং মেট্রো প্রভাতী বাসগুলো বিলম্বে ছাড়ার কারণে পথিমধ্যে যাত্রীরা টিকিট কেটেও বাসে উঠতে পারে না। মেট্রো প্রভাতী বাস সার্ভিস সম্পর্কে যাত্রীদের অভিযোগের শেষ নেই। ভাড়া বেশি দিয়েও যাত্রীদেরকে কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। মেট্রো প্রভাতী ছাড়া অন্য যেসব বাস সার্ভিস রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে বলে লাভ নেই। এসব বাসচালক ও হেলপারের মর্জিমাফিক চলাচল করে থাকে। এসব বাসে একবার চড়লেই হলো, যাত্রীর অবস্থা কাহিল করে ছাড়বে। এসব বাসে সেবার লেশমাত্রই নেই। ভাঙাচোরা সিট, অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন হওয়ার কারণে যাত্রীদের কাপড়চোপড়ের অস্তিত্ব ঠিক থাকে না। বিশেষ করে মহিলা যাত্রী, স্কুল, কলেজের ছাত্রছাত্রীরা বাসে চড়তে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হয়ে থাকে। সকালে অফিস টাইমে এবং বিকেলে অফিস ছুটির পর যাত্রীরা বাসের অভাবে বাসস্ট্যান্ড ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে। সকালে ও বিকালের দিকে শহর এলাকার অধিকাংশ বাস গার্মেন্টসের শ্রমিক পরিবহনের কাজে নিয়োজিত হওয়ায় বাস সংকট দেখা দেয়। এর প্রভাব গিয়ে পড়ে যাত্রীদের ওপর। অফিস খোলার দিন যাত্রীদের এভাবে কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। যাত্রীরা প্রতিদিন কী যে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে তা স্বচক্ষে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। এভাবেই চলছে চট্টগ্রাম নগরীর পরিবহনব্যবস্থা। যাত্রীদের এত কষ্ট হলেও তা লাঘবে প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। রাজধানী ঢাকাতে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসের মধ্যে অনেক উন্নত মানের এসি বাস সার্ভিস রয়েছে। চট্টগ্রামে এ ধরনের বাস সার্ভিস নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নগর পরিবহনব্যবস্থা বেশ উন্নত। যাত্রীসাধারণের স্বার্থে সরকার অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকেন। চট্টগ্রামবাসীর দাবি চট্টগ্রাম নগরীতে চলাচলকারী বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। সিট ক্যাপাসিটি বাস সার্ভিস বাড়াতে হবে। নিম্নমানের বাসগুলোর পারমিট বন্ধ করে নতুন উন্নত মানের বাস দিতে হবে। স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও মহিলাদের জন্য পৃথক বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করতে হবে। বেশ কয়েক বছর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন যাত্রীদের সুবিধার্থে উন্নত মানের বাস সার্ভিস চালু করেছিল। কিন্তু দক্ষ পরিচালনার অভাবে এই বাস সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। এখন আবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন চট্টগ্রাম শহরের যাত্রীসাধারণের সুবিধার্থে নতুন বাস সার্ভিস চালু করলে চট্টগ্রাম নগরবাসী বেশ উপকৃত হবেন। চট্টগ্রামবাসী আশা করে, চট্টগ্রাম নগরীতে যে পরিবহন সংকট বিরাজ করছে তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

n লেখক :বিমা কর্মকর্তা