মোস্তাফিজুল হক
শেখহাটি, শেরপুর।
হাবুল দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে বসবাস করছে। প্রবাসী হাবুল যেখানে বসবাস করে সে দেশের ভাষা ইংরেজি। বাড়িতে বাবা-মায়ের সাথে মোবাইলে কথা হয়। চিঠি লেখার খুব একটা প্রয়োজন হয় না। ফেসবুক স্ট্যাটাসে ইংরেজিতেই কমেন্ট করে। হঠাত্ একদিন ফেসবুকে তার বাল্যবন্ধু আবুলের আইডি দেখতে পেল। আবুল টেনেটুনে ফোর পাস করেছিল। তাই ও ইংরেজি একদমই বুঝে না। এদিকে সেও খুব একটা শিক্ষিত নয়। তাছাড়া হাবুলের মোবাইলে বাংলা লেখার অপশন নেই। কী আর করা! সে বন্ধুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দিয়ে মেসেঞ্জারে কী লিখল, তা পড়ি—
‘Vondo,
Asharakhi sokhi ashis. Chinesis ami k?
Eti
Ami toree Habul’
এবার আবুল মেসেজ পড়ছে—
‘ভণ্ড,
আশা রাখি সখী আশিষ। চাইনিজ অমি কে?
ইতি
অমি তরী হাবুল’
আবুল ছবি দেখে ঠিকই বুঝতে পেরেছে যে, এটা ওর প্রবাসী বন্ধু।
এবার সে বাংলায় লিখল—
‘ওগো বন্ধু,
বিদেশ যায়া তুই নিজেকে এইভাবে বদলায়া ফালাবি, ঝানতাম না! তুই এলাকার পাঁজি মেয়েগুলারে এহনও ভুলস নাই। আমি খুব কষ্ট পাইছি যে, তুই শুরুতেই আমারে ভণ্ড ডাকছস! অমি চাইনিজ না জাপানি আমি কি হেইডা জানি নাকি? আর আশিষ একটা গাঞ্জারু। হের খবর আমি রাহি না। তুই অগো লইয়াই থাক।’
তারপরের ঘটনা পুরো ইতিহাস। দুইদিন পরে আবুল হাবুলকে ব্লক মারছে।
