ব্যস্ত জীবনের বন্ধু...

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৩১

হেলাল নিরব

ঠিকানাবিহীন

 

ভার্সিটি লাইফেই নাকি আসে পরম শান্তির সময়। শত শত বন্ধুবান্ধব আর আড্ডার জন্য থাকে অনেক সময়। যদিও এ সময় থাকে না কোনো পড়ার বা বাসার প্যারা, তবুও এ সময়টায় সবাই হয়ে পড়ে অনেক ব্যস্ত। এমনই কয়েকজন ব্যস্ত বন্ধুদের কথা তুলে ধরা হলো—

অভাবী বন্ধু

এদের কাছ থেকে কখনো ডিরেক্ট কল পাওয়ার আশা করা যায় না। কখনো ফোন দিলে শোনা যায় তারা টিউশনিতে আছে। কিন্তু মাস যাওয়ার আগেই প্রায় দশবার এরা আপনার কাছে টাকা চাইবে। যদি কখনো এরা ফোন দেয় তখন তার ডিউরেশন হবে কয়েক সেকেন্ড মাত্র। আর কথা হবে, ‘দোস্ত কিছু টাকা ধার দে!’ আপনি ফোন দিয়ে পাওনা টাকা চাইলে এদের ব্যস্ততা হাজার গুণ বেড়ে যাবে।

অনলাইন পাগল বন্ধু

পুরো একবছর পর বা তারও বেশি সময় পরে যখন এই টাইপের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। তখনো এরা মোবাইলে চোখ রেখেই কথা বলতে বেশি কমফোর্ট ফিল করবে। আড্ডায় কাটানো সময়গুলোর প্রায় সম্পূর্ণটাই গেমস অথবা ফেসবুকেই ডুবে থাকে এরা। ঘণ্টা দুয়েক আড্ডায় হয়তো দু-একটা কথা হতে পারে আবার নাও হতে পারে। যদি কোনো প্রশ্ন করেন, তবে হয়তো দশ মিনিট পর বলবে, ‘উঃ’! ভাবুন এরা কত ব্যস্ত!

প্রেমিক ফ্রেন্ড

এই টাইপের বন্ধুরা খুবই প্রেম পাগল। এরা প্রেমে পড়তে খুব বেশি সময় নেয় না। বড় জোর একদিন, আবার কখনো তা কয়েক সেকেন্ডেই সফলভাবে সম্পন্ন হয়। তবে প্রেমের প্রশ্নে এরা খুবই উদারমনা। মেয়েটা তার দিকে তাকানোকেই এরা গভীর প্রেম হিসাবে দেখে। এদের সফলতার সময়ে সময়ে পরিবর্তন ঘটে। তবে এদের ব্যস্ত ভাবটা প্রেমিকা সামনে এলেই প্রমাণ হয়।

বেকার বন্ধু

‘আমি এক জায়গায় ইন্টারভিউ দিচ্ছি, দোস্ত পরে ফোন দিস’—এমন কথা প্রায়শই এরা অকপটে ইউজ করে। তবে সোনার হরিণ চাকরিটা তাদের কাছে অধরাই থেকে যায়। এরা হাজারো ইন্টারভিউর অভিজ্ঞতাকে আড্ডা পর্যন্ত নিয়ে আসে। আর কখনো বন্ধুকে স্যার বলে সম্বোধন করা এ টাইপের বন্ধুদের কাছে একাবারেই দুধ-ভাত। তবে এলাকায় এদের দেখা পাওয়া কিছুটা ডুমুরের ফুলের মতো।

আশাবাদী বন্ধু

‘শান্তার পেছনে আর না। এই সেমিস্টারে ভালো করতেই হবে’—এমন প্রতিজ্ঞা সাধারণত আশাবাদী বন্ধুরাই করতে পারে। তবে সেই প্রতিজ্ঞা কখনো সফল হয় না। এরা দুইদিন বেশ জোর করে প্রতিজ্ঞা অনুয়ায়ী কাজ করলেও শেষে আর হয় না। পর্যায় চক্রের মতো চলতে থাকে প্রতিজ্ঞা খেলা। তা হোক পড়াশোনা বা হোক প্রেমিকা শেষ সময়ে এরা হেরে যাবেই। আর আগের মতো ঘুরে ফিরেই কাটবে এদের আবেগী ব্যস্ত সময়।

অলস বন্ধু

এরা প্রতিশ্রুতি কখনো ঠিক রাখতে পারে না। যখন কোনো কাজে এদের ফোন দেবেন, তখন ঠিক বলবে, ‘দোস্ত কাল ভোর ৫টায় ঘুমাইছি, এখন ঘুমে চোখ লেগে আসতেছে। আমি আজ আসতে পারব না, অন্যদিন দেখ।’ আর কখনো বাসায় থেকে বলবে, ‘দুই মিনিট দাঁড়া, আমি গলির মুখে।’ তবে দুই মিনিটের জায়গায় বিশ মিনিট হলেও এদের দেখা পাওয়া ভার। এরা অ্যাসাইনমেন্ট করার জন্য বন্ধুদের ওপর নির্ভরশীল। তবে এদের বেশির ভাগ অ্যাসাইনমেন্ট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কখনো জমা দেওয়া হয় না।