গত বৃহস্পতিবার সন্তান ও পুত্রবধূ মিলে চাষাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ফেলে যাওয়া বৃদ্ধা জুলেখা বেগমের সচিত্র প্রতিবেদন সোমবার দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশ হয়। এরপর ঢাকার উত্তরখান থানায় অবস্থিত আপননিবাস বৃদ্ধাশ্রমের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা সেলিনা শেলি এই প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করে বৃদ্ধা জুলেখার দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৃদ্ধা জুলেখা র্বতমানে ফতুল্লা থানার মাসদাইরে নাতীন জামাই আমজাদ হোসেনের আশ্রয়ে রয়েছেন।
সোমবার সকালে সংবাদ প্রকাশের পর এলাকাবাসীর চাপে আমজাদ জুলেখাকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। ইত্তেফাকে জুলেখাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর কতিপয় সমাজসেবীর সহয়তায় খোঁজ নেয়া হয় ছেলে আবুল ও তার স্ত্রী বাতাসীর। জানা যায় মাসদাইরের ঘোষেরবাগ এলাকায় আবুল তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী বাতাসীকে নিয়ে বসবাস করে। আবুল স্থানীয় লোহার মার্কেটের শ্রমিক (৬০)। ঘটনাস্থল থেকে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করা কিছু শিক্ষার্থী ও আশেপাশের লোকজন ঠিকানা অনুযায়ী আবুলকে খুঁজতে গেলে তার ঘরে তালা ঝুলানো দেখতে পায়। বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীরা জানায় গত ৬ই ডিসেম্বর আবুল ও তার স্ত্রী জুলেখা বেগমকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর গেছে। তখন তাদের ঘটনা জানালে তারা বলেন, এখানে বাতাসীর প্রথম ঘরের মেয়ে ও তার স্বামী মোঃ আমজাদ হোসেন বসবাস করেন।
আরো পড়ুন: বৃদ্ধা মাকে স্টেশনে ফেলে গেলো ছেলে-ছেলের বউ
উল্লেখ্য, আবুল বাতাসীর ২য় স্বামী। এর আগে বাতাসীর আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। জুলেখা বেগমের নাতনী ও নাত জামাইকে ঘটনা সম্পর্কে জানালে তারা জানায়, এই ব্যাপারে তারা কিছুই জানে না।
এদিকে এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে বাড়িতে জড়ো হতে থাকে এলাকাবাসী। সবাই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং এর বিচার দাবি করে। এ সময় সেখানে উপস্থিত হয় এলাকার পঞ্চায়েত এবং শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজন। তারা আশ্বাস দিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে আমরা যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। অবশেষে জুলেখা বেগমের নাতজামাই আমজাদ হোসেন দায়িত্ব নিয়ে লোক মারফত চাষাড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে জুলেখা বেগমকে তার নিজ বাসায় নিয়ে যান।
বিকেলে আপননিবাস বৃদ্ধাশ্রমের র্নিবাহী পরিচালিকা এই প্রতিবেদককে টেলিফোন করে জুলেখার সকল দায়িত্ব গ্রহনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ইত্তেফাক/নূহু
