কালিয়ায় জোড়া খুনের ঘটনায় পাঁচ দিনেও মামলা হয়নি

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:৫৮

নড়াইলের কালিয়ায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবলীগ নেতাসহ জোড়া খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র গত পাঁচ দিনেও উদ্ধার হয়নি। এমনকি নিহতের পরিবার থানায় কোন মামলাও করেনি। এদিকে ঘরবাড়ি ফেলে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে খুনিরাসহ তাদের পরিবারের লোকজন। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটজনকে আটক করেছে পুলিশ। গ্রামটিতে নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওই গ্রামটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ অলিয়ার রহমান মোল্যা ও বর্তমান ইউপি সদস্য ইলিয়াছ মোল্যার মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে লড়াই চলে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অলিয়ার গ্রুপের সমর্থক কান্দুরী গ্রামের সাদেক মোল্যার ছেলে ওই ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমান আলী মোল্যা (৩৮) ও ফহম মোল্যার ছেলে রুকু মোল্যাসহ (৩৫) ৭/৮ জন তাদের নিজস্ব জমির ধান কাটতে রুকুর বাড়ির পাশের একটি জমিতে যায়। সে সময় ইলিয়াছ গ্রুপের শতাধিক লোক দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের অতর্কিতে ঘিরে ফেলে এবং শর্টগান দিয়ে গুলি বর্ষণ করলে গুলিতে ইমান আলী ও রুকু মোল্যা নিহত হয়। আর গুলিবিদ্ধ হয় আরও ৫ জন।

ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ গত পাঁচ দিনে কান্দুরী গ্রামের আব্দুর রব মোল্যা ( ৪০), জাহাঙ্গীর মোল্যা (৩২), টুটুল মোল্যা (৩৫), হাসিদুল মোল্যা (২৮), বেলায়েত মোল্যা (৪২), আব্দুল্লাহ মোল্যা (৪৪), শাহজাহান মোল্যাকে  ( ৬৫) লোহারগাতি গ্রামের ইখলাছ তালুকদার (৩৪) আটক করেছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৪ রাউন্ড বন্দুকের গুলির খোসা উদ্ধার করলেও গত পাঁচ দিনেও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অবৈধ অগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি।

ঘটনার পর থেকে কান্দুরী গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে যেমন উত্তেজনা ও আতংক বিরাজ করছে তেমন চলছে শোকের মাতম। ঘটনার পর থেকে খুনিদের পাশাপশি তাদের পরিবারের নারী ও শিশুরা গ্রাম ছেড়ে পালাতে শুরু করেছে। গ্রামটিতে রাত নামছে যেন অজানা আতংক নিয়ে বলে জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও সমর্থকরা। 

উপজেলার নড়াগাতি থানার ওসি মো. আলঙ্গীর কবির বলেছেন, 'নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সোমবার বিকাল পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। তবে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ও খুনিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।'

আরও পড়ুনঃ হবিগঞ্জে ধানের শীষ পেলেন রেজা কিবরিয়া

নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সার্কেল মো. সরফুদ্দিন বলেছেন, 'হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ও খুনিদের গ্রেফতার অভিযান চলছে।' অল্প সময়ের মধ্যে সফলতা পাওয়ার দাবি করেছেন তিনি।

ইত্তেফাক/নূহু