তথ্যভান্ডারে ঢুকতে লাগবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২৭

সুরক্ষায় ‘ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড’ চালু করেছে ইসি

সাইদুর রহমান

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডারের (সার্ভার) সুরক্ষায় ‘ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড’ (ওটিপি) পদ্ধতি চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রবিবার থেকে ওটিপি ছাড়া ইসির কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী ভোটার তথ্যভান্ডারে ঢুকতে পারছেন না। ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, প্রুফ রিডার বা উপজেলা/থানার কোনো কর্মকর্তা সার্ভারে ঢুকতে চাইলে তাকে আগে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে হবে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পাসওয়ার্ড দিতে হবে। পাসওয়ার্ড অনুমোদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তার ইমেইল অথবা মোবাইলফোনে ওটিপি যাবে। সেই ওটিপি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মী বা কর্মকর্তা দিলে তবেই ঐ ব্যক্তি সার্ভারে ঢুকতে পারবেন।

ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, তথ্যভান্ডারের সুরক্ষার জন্য এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। কেউ যাতে সহজেই তথ্যভান্ডারে প্রবেশ করতে না পারেন—সেটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের খসড়া ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা ভোটার শনাক্ত হওয়ার পর দেশব্যাপী সুরক্ষামূলক এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইসি। চলমান ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে রোহিঙ্গা যাতে ভোটার না হতে পারে, সেজন্য তথ্যভান্ডারের সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের সব আঞ্চলিক, জেলা/উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

ইসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে শুধু পাসওয়ার্ড দিয়ে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর বা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্ভারে ঢুকতেন। অভিযোগ আছে, অপারেটরদের অনেকে অন্য অপারেটরের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে জালিয়াতির কাজ করেছেন। এমনকি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের অনেকে নিজের পাসওয়ার্ড অফিস সহকারী ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের দিয়ে রাখতেন। ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা ঠেকাতে তাত্ক্ষণিক ৫১৮টি থানা ও উপজেলা অফিসের সার্ভারের পাসওয়ার্ড ও কোড নম্বর পরিবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে আরো রোহিঙ্গাদের নাম ঢুকতে পারে—এমন আশঙ্কায় ৩ সেপ্টেম্বর থেকে রবিবার পর্যন্ত সার্ভারে নতুন ভোটারদের তথ্য আপলোড করার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়। এখনো পর্যন্ত যারা নতুন ভোটার হচ্ছেন তারা কার্ড পাচ্ছেন না।

ইসি সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত চট্টগ্রামের খসড়া ভোটার তালিকায় প্রায় পৌনে ১০০ রোহিঙ্গা চিহ্নিত হয়েছে। যাচাই করতে গিয়ে দেখা গেছে, এদের ভোটার তথ্য ফরমের একটি পাতা স্ক্যান করে সার্ভারে আপলোড করা হয়েছে। অন্য পাতাটি আপলোড করা হয়নি। ইসির কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, চূড়ান্ত খসড়া তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে নেওয়া নিবন্ধিত ১১ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গাদের সার্ভারে ঢোকানো হলে এ সংখ্যা আরো বাড়বে।

এ বিষয়ে এনআইডি ডিজি মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম আরো বলেন, ওটিপি ব্যবহারের ফলে জালিয়াতি অনেকাংশেই রোধ হবে। কারণ এখন থেকে কোনো অপারেটর বা কর্মচারী সার্ভারে ঢুকতে চাইলে সেটা সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা জানতে পারবেন। তা ছাড়া জালিয়াতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট মাঠকর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। পাসওয়ার্ডের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।