মোহামেডান, ভিক্টোরিয়া দিলকুশা ও আরামবাগ ক্লাবে অভিযান

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:১২

র্যাবের অভিযানের পর এবার টনক নড়েছে পুলিশের। পুলিশ গতকাল রবিবার মতিঝিলের চারটি ক্লাবে অভিযান চালিয়ে মদ, টাকা ও বিপুল পরিমাণ ক্যাসিনো জুয়ার সামগ্রী জব্দ করে। তবে এ সময় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। পল্টন ও মতিঝিল থানা পুলিশ যৌথভাবে গতকাল দুপুর আড়াইটা থেকে মতিঝিলের আরামবাগ, দিলকুশা, মোহামেডান ও ভিক্টোরিয়া ক্লাবে এ অভিযান শুরু করে, চলে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। এর মধ্যে ভিক্টোরিয়া ক্লাব থেকে বিভিন্ন ধরনের জুয়া খেলার ৯টি বোর্ড, ১ লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ তাস, জুয়ায় ব্যবহূত চিপস ও মদ পাওয়া যায়। মোহামেডানে পাওয়া গেছে দুটি রুলেট টেবিল, ৯টি বোর্ড, বিপুল পরিমাণ কার্ড, ১১টি ওয়্যারলেস সেট ও ১০টি বিভিন্ন ধরনের ছুরি। আরামবাগ ও দিলকুশা ক্লাবেও বাকারা ও রুলেট টেবিলসহ বিভিন্ন জুয়ার সরঞ্জাম পেয়েছে পুলিশ। তবে সবগুলো ক্লাবই এ সময় বন্ধ ছিল বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।

এ ব্যাপারে মতিঝিল জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পরই আমরা অভিযান পরিচালনা করি। এর আগে কোনো গোয়েন্দা সংস্থা থেকে ক্যাসিনো চালানোর ব্যাপারে তথ্য পাইনি। ইন্টেলিজেন্স যখনই জানিয়েছে তখনই আমরা অভিযানে নেমেছি।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, ‘এই চারটি ক্লাবে অভিযানের সময়                 আমরা নগদ টাকা, ডলার এবং ক্যাসিনোর যাবতীয় সরঞ্জাম জব্দ করেছি। এখন আমরা তদন্ত করে দেখব কারা এর সঙ্গে জড়িত, কারা এর পৃষ্ঠপোষক। তাদের সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব। জড়িত কাউকেই আমরা ছাড় দেব না।’

অভিযানের আগে ক্লাবে অবস্থানকারী সবাই পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু এসব ক্লাবের একটি অংশ জুয়া খেলার জন্য তৈরি করা হয়েছিল তাই ক্লাব চারটি সিলগালা করা হয়েছে।

মতিঝিল থানার পাশে জুয়ার ক্যাসিনো চললেও পুলিশ এতদিন কেন ব্যবস্থা নেয়নি সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আগে থেকে এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো গোয়েন্দা তথ্য ছিল না, আজ (রবিবার) গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পরই আমরা অভিযানে নেমেছি।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) শফিকুল ইসলাম জানান, রাজধানীর কোথাও জুয়ার আসর বসতে দেওয়া হবে না। ঢাকায় কোনো ক্যাসিনো থাকবে না। ক্যাসিনোর মালিক ও এর সঙ্গে জড়িতরা যত প্রভাবশালীই  হোক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে র?্যাবের হাতে আটক হন ঢাকা দক্ষিণ মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া। অস্ত্র ও মাদকের পৃথক দুই মামলায় তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

সম্প্রতি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েক জন নেতার বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপরই ছাত্রলীগের পদ হারান শোভন-রাব্বানী। এরপর আটক হন খালেদ। শুক্রবার যুবলীগের অপর আলোচিত নেতা জি কে শামীমকে নিকেতনের নিজ কার্যালয় থেকে আটক করা হয়। রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে আটক করে র?্যাব। শামীমের সঙ্গে তার সাত দেহরক্ষীকেও আটক করা হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ১ কোটি ৮০ লাখ নগদ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার ওপরে এফডিআর (স্থায়ী আমানত)। এর মধ্যে তার মায়ের নামে ১৪০ কোটি টাকা ও ২৫ কোটি টাকা তার নামে।

এছাড়া গত শুক্রবার রাতে র?্যাবের অভিযান পরিচালিত হয় রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ক্লাবে। আটক করা হয় ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে। অভিযানের সময় শফিকুলের কাছ থেকে সাত প্যাকেট গন্ধহীন হলুদ রঙের ইয়াবাসহ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এছাড়া জব্দ করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ক্যাসিনোতে খেলার কয়েন, স্কোরবোর্ড ও ৫৭২ প্যাকেট তাস। র?্যাবের ধারণা, এ ক্লাবে ক্যাসিনো খেলা হতো। ঐ রাতেই রাজধানীর ধানমন্ডি ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু সেটি বন্ধ থাকায় সেখানে থাকা বারটি সিলগালা করে দেন র?্যাব সদস্যরা।