শাবি ভিসির বিরুদ্ধে ৫৩ অভিযোগ, শ্বেতপত্র প্রকাশ

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:১০

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে বেনামে শ্বেতপত্র প্রকাশিত হয়েছে। ২৪ পৃষ্ঠার এই শ্বেতপত্রটি শনিবার ইত্তেফাকের হাতে এসেছে, যাতে প্রকাশকারীদের পরিচয়ে বলা হয়েছে, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার শিক্ষক-কর্মকর্তাবৃন্দ’। তবে এই শ্বেতপত্র প্রকাশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতে কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

শ্বেতপত্রে উপাচার্যের দায়িত্ব পালনকালীন বিগত দুই বছরে তার আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছতা, স্বৈরাচারী আচরণ, দুর্ব্যবহার, সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার, শিক্ষকদের প্রমোশন ও আপগ্রেডেশনে পক্ষপাতিত্বসহ মোট ৫৩টি অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তাছাড়া শাবির মেধাবী গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগ না দেওয়া, শাবির ১ম, ২য় ও ৩য় মেধাস্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধা তালিকার ৩৯, ৫০, ৬৩, ও ৭১তম শিক্ষার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে কারো মতামত না নিয়েই ভর্তি কমিটি গঠন, সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত পরবর্তীকালে ইচ্ছেমতো সংযোজন/বিয়োজন করা, পূর্ববর্তী উপাচার্যের সময় বরাদ্দকৃত ২০০ কোটি টাকার পূর্ণ ব্যবহার করতে না পারা, বিএনপি-জামায়াত তোষণনীতি, সিন্ডিকেট সভায় রেজিস্ট্রারকে দাঁড় করিয়ে অপমান করা, ছাত্রলীগের একটি গ্রুপকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া, শিক্ষকদের জন্য যৌথ বীমা থাকা সত্ত্বেও প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে স্বাস্থ্যবীমায় বাধ্য করে আর্থিক অনিয়ম করার অভিযোগ আনা হয়েছে শ্বেতপত্রে। এদিকে শ্বেতপত্র প্রকাশিত হওয়ার পর ক্যাম্পাসে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

কাপুরুষরাই বেনামে এসব কাজ করে থাকে :শাবি ভিসি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে বেনামে শ্বেতপত্র প্রকাশিত হয়েছে। ২৪ পৃষ্ঠার এই শ্বেতপত্রে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ৫৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বেনামে প্রকাশিত শ্বেতপত্রে অভিযোগগুলো মিথ্যা দাবি করে শাবি উপাচার্য বলেন, একমাত্র  কাপুরুষরাই বেনামে এসব কাজ করে।

রোববার দুপুরে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, অভিযোগ উঠেছে, আমি শিক্ষক নিয়োগে শাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করি। অথচ গত দুই বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৮ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে শাবি থেকে ৪৭ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।