হুমকির মুখে তীরের মানুষ
নজরুল ইসলাম মুহিব, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলায় মনু নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে চলছে বালু উত্তোলনের উত্সব। আমুয়া, চানপুর, শেওয়াইজুরী ও সুমারাই তীরবর্তী এসব স্থান থেকে প্রতিনিয়ত স্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কোনো নিয়মনীতি না মেনেই প্রতিনিয়ত নদী থেকে বালু তুলছেন ইজারাদাররা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ প্রতিবাদ করলে তাদের হুমকি দেয় স্থানীয় প্রভাবশালী ইজারাদার ও তার কাজে নিয়োজিত সহযোগীরা। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার শহর ও বিভিন্ন উপজেলা শহরে একাধিকবার মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ, বিক্ষোভ ও জেলা প্রশাসক বরাবর অবেদন করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আমুয়া গ্রামের দুই পাশে মনু নদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ। নদী তীরবর্তী বাড়িঘর সুরক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতিমধ্যে পাথর দিয়ে তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছে। নদীতে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটানা বালু উত্তোলনে শব্দদূষণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ব্যাপক দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
গত ২১ জুলাই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী সরেজমিন তদন্ত করে দেখেন যে, ঐ জায়গা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে যে কোনো সময় মনু নদী তীরবর্তী কয়েকটি গ্রাম যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। প্রতিবেদনে তারা বালু উত্তোলন বন্ধের প্রস্তাব দেন; কিন্তু তার পরেও অদৃশ্য কারণে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিকার চেয়ে নদীর তীর রক্ষায় মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
সদর উপজেলার চানপুর গ্রামের সায়েদ আহমদ কাছু মিয়া এলেমান মিয়া, হরেকৃঞ্চ, উমর মিয়া, কছয়র মিয়া, দরবেশ মিয়া, আলাই মিয়া, লক্ষণ সরকার, হর কুমার বর্মণ, শ্রীকান্ত সরকার, মনাই মিয়া, উপেন্দ্র, জ্যোতি সরকার, দুর্গা সরকার ও নিরঞ্জন সরকারসহ প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা জানান, অভিযোগ পেলে পরিবেশ সুরক্ষার জন্য প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদর উপজেলার আখাইকুড়া ইউপি আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাসুদ খান বলেন, ইজারাদাররা সরকারি নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করছে। ফলে মসজিদ, মক্তব শ্মশানঘাট, কবরস্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ পুরো এলাকা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ইজারাদার মনাই মিয়া বলেন, কারো ক্ষতি করে আমি বালু উত্তোলন করিনি। সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে বালু উত্তোলন করছি।
জেলা প্রশাসক বেগম নাজিয়া শিরিন জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এমন অভিযোগ পেলে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
