স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সরকারের কাছে রাঘব বোয়াল, চুনোপুঁটি বলে কিছু নেই। সব অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাদ যাবেন না সংসদ সদস্যরাও। ক্যাসিনো কীভাবে চালু হলো তাও তদন্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, যারাই অপরাধী তাদেরই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। গডফাদার কিংবা গ্র্যান্ডফাদার নয়, আমরা চিনি অপরাধী।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু অবৈধ ব্যবসা ও টেন্ডারবাজদের বিষয় আমাদের কানে এসেছে। এসবের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ শুরু করেছে। কে কোথায় আছে তার চেয়ে বড়ো হচ্ছে কে কতটুকু অপরাধ করেছে। অভিযানের মুখে অনেকে গা ঢাকা দিয়ে আছেন। আবার অনেকে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন এটা ঠেকাতে বিমানবন্দর বা স্থলবন্দরে আপনারা রেড এলার্ট জারি করেছেন কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রেড এলার্ট জারির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বিমানবন্দরে আমাদের একটা লিস্ট থাকে। তাই কখনই বিমানবন্দর দিয়ে অপরাধীরা দেশ ছেড়ে যেতে পারে না।
এদিকে, চট্টগ্রামের ক্রীড়া ক্লাবগুলোতে অভিযানে রবিবার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, যিনি চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের মহাসচিবও। তিনি বলেছেন, ‘ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে, মদের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। কিন্তু জুয়ার নামে ক্লাবগুলোতে অভিযান মানা যায় না। যেসব ক্লাবে সদস্য এবং তাদের বন্ধুরা এসে কার্ড খেলে ক্লাবকে কিছু ডোনেট করে, সেটা যদি বাধাগ্রস্ত করা হয়, তাহলে ক্লাব বন্ধ হয়ে যাবে।’
হুইপের এই বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা অবৈধ ব্যবসা ছাড়া বৈধ কোনো প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালাচ্ছি না। প্রধানমন্ত্রী জনপ্রিয়তার জন্য নয়, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে এসব অবৈধ ব্যবসা বা অন্যায়কে দমন করতে হবে।
