রোহিঙ্গা ভোটার কেলেঙ্কারিতে জড়িত ইসির ১৫ জন চিহ্নিত

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৫৩

বাংলাদেশে আশ্রিত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ভোটার কেলেঙ্কারিতে জড়িত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ১৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইসি গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তাদের নাম এসেছে। এই ১৫ জন কোনো না কোনোভাবে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তের অপচেষ্টায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে তাদের বেশির ভাগই বিভিন্ন অপরাধে চাকরিচ্যুত। তাদেরকে নজরদারিতে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সোমবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি উইং) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন এনআইডি উইংয়ের পরিচালক (অপারেশনস) আবদুল বাতেন, ইসির সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, পাঁচ সদস্যের প্রশাসনিক তদন্ত কমিটির প্রধান এনআইডি উইং পরিচালক খোরশেদ আলম, কারিগরি বিশেষ তদন্ত কমিটির প্রধান এনআইডি পরিচালক ইকবাল হোসেন ও সদস্য এনআইডি উইংয়ের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট সাহাব উদ্দিন।

এনআইডির ডিজি বলেন, ইসির মূল সার্ভার সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছে। আগামী ২৪ জানুয়ারির আগে মূল সার্ভারে প্রবেশের সুযোগ নেই। কেননা, আইন অনুযায়ী মূল সার্ভারে তথ্য সন্নিবেশ করার আগে ১ জানুয়ারি খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি করা হবে। আর ২৪ জানুয়ারির পর আবারও যাচাই করে মূল সার্ভারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাই চলমান হালনাগাদে রোহিঙ্গারা টেম্পোরারি সার্ভারে ঢুকেছে। ৬১ জনের মতো চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুটি তদন্ত কমিটির দেয়া প্রাথমিক তথ্যে সন্দেহভাজন ১৫ জনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টশন থাকলেও তাতে স্মার্টকার্ড পাওয়া রোহিঙ্গাদের বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। গত ১ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত রোহিঙ্গা ডাকাত নূর মোহাম্মদের কাছে স্মার্টকার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র) পাওয়া যায়। ইসি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মূল সার্ভারে পরিপূর্ণ তথ্য না থাকলে স্মাটকার্ড প্রিন্ট হয় না। স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তা আটকে যায়। নূর মোহাম্মদের সম্পূর্ণ তথ্য ইসির মূল সার্ভারে ছিল।

সম্প্রতি লাকি নামের এক রোহিঙ্গা নারী এনআইডি সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পাসপোর্ট নিতে গিয়ে ধরা পড়ার পর জালিয়াত চক্রের খোঁজে নামে ইসি। রোহিঙ্গা সন্দেহে অর্ধশত এনআইডি বিতরণ আটকে দেয় তারা। জানা যায়, ২০০৭-২০০৮ সালে ব্যবহূত কিছু অকেজো ল্যাপটপ নিলামে বিক্রি করে দেয়া হয়। ওই সময় অন্তত পাঁচটি ল্যাপটপ হারিয়ে যায়, যার দুটি জালিয়াত চক্রের হাতে পড়ে বলে সন্দেহ তদন্ত দলের। 

সংবাদ সম্মেলনে ডিজি সাইদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার স্বার্থে চিহ্নিত ১৫ জনের নাম এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে তাদের নাম প্রকাশ করা হবে।

এনআইডি ডিজি বলেন, তারা ফাঁদ পেতে একটি চক্রকে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। প্রথমে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা নির্বাচন অফিসের কর্মচারী জয়নালকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর অন্যদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এ সংখ্যাটা ১৫ জনের অধিক হবে না। তিনি বলেন, তাদের বেশির ভাগই ইসি থেকে চাকরিচ্যুত হয়ে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করত। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রবাসে ভোটার করার সময়ও রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করা হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে আগের ভোটারদের মধ্যে কেউ রোহিঙ্গা রয়েছে কি না তাও যাচাই করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ইসির সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের টেম্পোরারি সার্ভারেও যাতে যুক্ত করা না যায় সেজন্য সব কর্মকর্তার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া সার্ভারে ঢোকার জন্য ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) মেসেজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইসির এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশনস) আবদুল বাতেন বলেন, ৬১ জনের মধ্যে ইসির বিশেষ তদন্ত কমিটি এক জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়। যার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইসির এক কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।