পাইলটেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হুমকির মুখে নৌ চ্যানেল

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৫৪

বিআইডব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগের অধীন নৌযান চলাচলে সহায়তার জন্য পাইলটেজ সার্ভিস থাকলেও তা বাস্তবে কার্যকর নেই বললেই চলে। এ কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনাও। জাহাজডুবির কারণে হুমকির মুখে রয়েছে নৌ চ্যানেলগুলো। দেশের ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ থাকলেও তার মধ্যে বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার এবং শুকনো মৌসুমে ৩ হাজার ৯০০ কিলোমিটার নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগ সংরক্ষণ করে। সংরক্ষণকৃত নৌপথ ছাড়াও নতুন নৌপথ খুঁজে বের করা এবং জরিপ পরিচালনাসহ নৌপথের ড্রাফট, ভার্টিক্যাল ও হরাইজেন্টাল ক্লিয়ারেন্স উল্লেখ করে মাসিক ভিত্তিতে নদী বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়।   জাহাজ চলাচল বিধিমালা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন চ্যানেলে জাহাজগুলোর নিরাপদ আসা-যাওয়ার জন্য বিআইডব্লিটিএ থেকে সরকারি পাইলটেজ সার্ভিসনেওয়ার বিধান থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। বরিশাল নদীবন্দরের পাইলট বিশ্রামাগারে ১৬ জন পাইলট ও আট জন মাস্টার পাইলট রয়েছেন। প্রতি ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক পণ্যবাহী জাহাজ বরিশাল নদীবন্দর দিয়ে যাত্রা করে। এর মধ্যে মাত্র চার থেকে পাঁচটি জাহাজ পাইলটেজ সার্ভিস পেয়ে থাকে। সরকারি এই পাইলটেজ সার্ভিসে প্রতি ৮ ঘণ্টার জন্য ৪০০ টাকার রাজস্ব আদায় হয়। অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী পাইলটদের বলা হয় বিট পাইলট আর আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী পাইলটদের বলা হয় মাস্টার পাইলট। পাইলট ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো কার্যক্রম বাস্তবে নেই বললেই চলে। যেসব জাহাজ এ নিয়ম মানছে না, তাদের বিরুদ্ধে অভিযানের নিয়ম থাকলেও ২০১৮ সালে গাবখান চ্যানেলে মাত্র একটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। চলতি বছরের এ পর্যন্ত দুটি অভিযানের খবর পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পাইলট জানান, নদীপথে চোরাই তেলসহ নানান পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। এসব জাহাজ কখনোই পাইলট নেয় না। এতে করে পাইলটদের অলস সময় পার করা ছাড়া আর উপায় থাকে না। তবে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে পাইলট নেওয়া বাধ্যতামূলক হতো এবং সরকারি পাইলটরা কাজ করতে পারতেন। পাইলটরা জানান, নদীপথে অবৈধ পণ্য পরিবহনে রাজস্ব ফাঁকিসহ ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনাও। গত কয়েক মাসে এখানকার মেঘনা, গজারিয়া নদীতে পণ্যবোঝাই জাহাজ নিমজ্জিত হয়। সরকারি পাইলটরা জানান, মেঘনা নদীতে ডুবোচরের পাশাপাশি কার্গো নিমজ্জিত থাকায় নদীপথ সরু হয়ে যাওয়ায় চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

বরিশাল নৌবন্দরের পাইলট সুপারভাইজার মৌজে আলী জানান, হাইড্রোগ্রাফি সার্ভের মাধ্যমে নদীপথের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে পাইলটরা অভিজ্ঞ। সরকারিভাবে প্রতিবছর বিআইডব্লিউটিএর মাধ্যমে নদীর নাব্য, ঝুঁকিপূর্ণ স্রোত, ডেঞ্জার জোন, ডুবোচরসহ সার্বিক অবস্থা রেকর্ড করে তা সরকারি পাইলদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অবহিত করা হয়। এ কারণে বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ আসা-যাওয়ার জন্য পাইলট অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে।

অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, আসা-যাওয়া নিয়ে দুবার ট্রিপে ঢাকা থেকে খুলনা পর্যন্ত যেতে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, বরিশালসহ খুলনা বন্দর থেকে প্রতিবার ট্রিপে তিনটিসহ মোট ছয়টি কুপন নিতে হয় সরকারি পাইলট নেওয়ার জন্য। বরিশাল নৌবন্দর থেকে দৈনিক শতাধিক জাহাজ ঢাকা-বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ পায়রা বন্দরে আসা-যাওয়া করে। এর মধ্যে রয়েছে তেলবাহী ট্যাংকার, মালবাহী বড়ো কার্গো, মালবাহী কোস্টার, দাহ্য পদার্থবাহী ট্যাংকারসহ সিমেন্টের কিলিংকারবাহী জাহাজ। কিন্তু বন্দরে আসা-যাওয়ার পর জাহাজ নিয়মানুযায়ী পাইলট নেওয়ার জন্য সংকেত (সাইরেন) বাজাবে। আর পাইলট ভবন থেকে তা প্রত্যক্ষ করে ট্রলারযোগে জাহাজে থাকা পূর্বের স্টেশনের পাইলট অবতরণ করবেন এবং পাইলট হাউজ থেকে আবার একজন সেই জাহাজে উঠবেন। অথচ বরিশাল নৌবন্দরে এর কোনোটিই হয় না বললেই চলে।

বরিশাল নৌ সংরক্ষণ বিভাগের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, গড়ে দৈনিক ১০-১২টি পণ্যবাহী জাহাজ পাইলট সরবরাহ করে। যেসব পণ্যবাহী জাহাজ পাইলট নেয় না, সেসব জাহাজের বিরুদ্ধে তিন মাস পর পর ভিজিলেন্স টিম নিয়ে বিভিন্ন চ্যানেলে অভিযান পরিচালিত হয়ে আসছে।