রাজধানীর গুলশান লিংক রোডের ফু-ওয়াং ক্লাব ও মগবাজারে পিয়াসী বারে গতকাল সোমবার অভিযান চালায় পুলিশ। এদিকে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে গুলশানের ম্যাংগো স্পা থেকে আটক হওয়া আসাদুজ্জামানের দুই দিন ও লাইফ স্টাইল স্পার রুহে আলমের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লা-আল মামুন জানান, আমরা ফু-ওয়াং ক্লাবে অভিযান পরিচালনা করেছি, তবে সেখানে অবৈধ কিছু পাওয়া যায়নি। এখানে একটি বার রয়েছে, ক্লাব কর্তৃপক্ষ ঐ বারের অনুমতিপত্র (লাইসেন্স) দেখাতে পেরেছে।
ফু-ওয়াং ক্লাবের ম্যানেজার মো. শামীম বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, তিন বছর ধরে তিনি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ক্লাবের মদের বার রয়েছে। সেটির লাইসেন্স রয়েছে। এছাড়া জিমনেশিয়াম রয়েছে। তবে এখানে কোনো ক্যাসিনো বা জুয়া খেলা হয় না।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আনিসুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকাল ৫টার দিকে ফু-ওয়াং ক্লাবে ঝটিকা অভিযান শুরু হয়। অভিযোগ ছিল ফু-ওয়াং ক্লাবে জুয়ার আসর বসে।
হাতিরঝিল থানার ওসি আব্দুর রশিদ বলেন, সন্ধ্যায় মগবাজারের পিয়াসী বারে অভিযান চালানো হয়; কিন্তু সেখানে কোনো ক্যাসিনো ছিল না। বারের বৈধ লাইসেন্স ছিল। পরে সেখান থেকে নিউ ইস্কাটন রোডে গোল্ডেন ড্রাগন বারে অভিযান চালানো হয়।
এদিকে রবিবার রাতে গুলশান-১ নাভানা টাওয়ারে লাইভ স্টাইল হেল্থ ক্লাব অ্যান্ড স্পা অ্যান্ড সুেলন, ম্যাংগো স্পা ও রেসিডেন্স সেলুন-২ অ্যান্ড স্পায় অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ১৬ নারী ও তিন পুরুষসহ মোট ১৯ জনকে আটক করা হয়। গতকাল সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালতে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রুহে আলমের পাঁচ দিন এবং আসাদুজ্জামানের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আসাদুজ্জামানের দুই দিন ও লাইফ স্টাইল স্পার রুহে আলমের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
এছাড়া গুলশান থানার মানব পাচারের পৃথক তিন মামলায় স্পা থেকে আটক ১৬ নারীকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন—রেসিডেন্ট সেলুন অ্যান্ড স্পার সাদিয়া, রুমানা আক্তার, হিরা মনি, মমতাজ বেগম, লাকি আক্তার মিম। লাইফ স্টাইল স্পার লিলি রেমা, সাহিদা, হাওয়া আক্তার, শারমিন আক্তার, মাধবী চিরং, কলি হক, সুমা সাংমা, টিনা খাতুন, রুবি ও লাকি। ম্যাংগো স্পার মাহফুজা সাথী। বিজয়নগরে সায়হাম স্কাইভিউ টাওয়ারে অভিযান চালিয়ে বিনোদন সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবুসহ ১৫ জুয়াড়িকে পুলিশ আটক করে। তাদের মধ্যে কামরুজ্জামান বাবুসহ পাঁচ জনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালত তাদের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশ জানায়, সায়হাম স্কাইভিউ টাওয়ারের আট তলায় অবস্থিত বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাবে নিয়মিত জুয়ার আড্ডা বসত। অনেক অপ্রীতিকর, অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল ক্লাবটির বিরুদ্ধে। অনেক উঠতি মডেল, নায়িকারাও আসেন এখানে। এসব অভিযোগ পেয়েই পুলিশ রবিবার রাতে সেখানে অভিযান চালায়।
