ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, আহত ৩৩

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:৩৩

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে। হামলায় ছাত্রদলের ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে থাকা তিন জন গণমাধ্যম কর্মীকেও মারধর করা হয়। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস           ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। সনজিত দাবি করেন, হামলার বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা ছিল না।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নেতাকর্মীদের নিয়ে সকালে মধুর ক্যানটিনে গিয়েছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন। সেখানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাগিবতণ্ডার পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্যানটিন থেকে বেরিয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে হাকিম চত্বরে যান তিনি। সেখানে ইকবাল হোসেন গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে, ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের দিকে এগিয়ে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত ও তার অনুসারী নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে বলেন। সনজিতের কথায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা টিএসসির স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর এলাকায় চলে যান। সেখানে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নেতাকর্মীদের বিদায় দিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়তেই সনজিতের অনুসারী ৫০-৬০ জন নেতাকর্মী রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান।

প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, সনজিত চন্দ্র দাসের অনুসারী মাস্টারদা সূর্য সেন হল সংসদের ভিপি মারিয়াম জামান খান, জগন্নাথ হল সংসদের জি এস কাজল সরকার, সূর্য সেন হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাইসুল ইসলাম, স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী আপেল মাহমুদ, কবি জসীমউদ্?দীন হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী মুহসীন আলম তালুকদারসহ অনেকে হামলায় অংশ নেন।

ইকবাল হোসেন অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের আহত নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নেওয়াজ, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে এ জি এস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী খোরশেদ আলম সোহেল প্রমুখ। এদের মধ্যে সাত-আট জনের অবস্থা গুরুতর।

এছাড়াও ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার এলাকায় থাকা দৈনিক যায়যায়দিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আনিসুর রহমান ও বিজনেস বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নুরুল আফসার ও প্রতিদিনের সংবাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রাহাতুল ইসলাম রাফির ওপর হামলা করা হয়। এতে আনিসুর রহমান গুরুতরভাবে আহত হন। এ সময় তাদের মধ্যে থেকে এক জনের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় নেতাকর্মীরা।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ঘটনার সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের ভেতরে ছিলেন। তার বা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কারও ওপর হামলার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। অতি-উত্সাহী নেতাকর্মীরা ঘটনাটি ঘটিয়েছেন দাবি করে সনজিত ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘সাংবাদিকদের সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে, তা আমাদের ব্যর্থতা বলে মনে করি। সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা দুঃখিত। হামলাকারীদের বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান সাদ্দাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা ক্যাম্পাসে এক ধরনের স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেছি। লিখিত অভিযোগ এলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’