ব্রেক্সিট প্রসঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত লইবার ক্ষণ উপস্থিত হইয়াছে ব্রিটেনে। আজ মঙ্গলবার পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিতব্য ভোটাভুটির মধ্য দিয়া ব্রিটেনের সহিত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সম্পর্কের ভবিষ্যত্ অনেকটাই নিশ্চিত হইয়া যাইবে বলিয়া সর্বমহল মনে করিতেছে। এইদিকে, ব্রেক্সিটকে ঘিরিয়া রাজনৈতিক অঙ্গনের মতো ব্রিটিশ সমাজেও গভীর বিভক্তিরেখা প্রকট হইয়া উঠিয়াছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিএমজি রিসার্চের সদ্য প্রকাশিত একটি জরিপ হইতে এই প্রবণতার আরেক দফা সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে। জরিপমতে, বর্তমানে ব্রিটেনে ৫২ শতাংশ মানুষ ব্রেক্সিটের বিপক্ষে অবস্থান করিতেছে। উল্লেখ্য, গত গ্রীষ্মকাল হইতে ব্রেক্সিটের বিপক্ষে জনসমর্থন ৪০ শতাংশ হইতে বাড়িতে শুরু করিয়া চলতি মাসে আসিয়া বর্তমান পর্যায়ে উপনীত হইয়াছে। পক্ষান্তরে, বর্তমানে মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষ ইইউ ত্যাগ করিবার ব্যাপারে অটল অবস্থায় আছেন। ছয় শতাংশ মানুষ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অপারগ বলিয়া জানাইয়াছেন। থেরেসা মে সমপ্রতি ব্রেক্সিট লইয়া ইইউ-এর সহিত যেই রফাতে পৌঁছাইয়াছেন তাহা লইয়াও প্রায় অর্ধেক মানুষ আপত্তি প্রকাশ করিয়াছেন। মাত্র ১৩ শতাংশ মানুষ থেরেসা মে-এর রফার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করিয়াছেন।
পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে থেরেসা মে-এর রফাটি পাস না হইলে ব্রিটেন কোন পথে হাঁটিবে? পর্যবেক্ষকেরা তিনটি সম্ভাবনার কথা বলাবলি করিতেছেন। একটি পক্ষের মতে, নূতন বাস্তবতাতে ইইউ-এর সহিত কোনো ধরনের রফা ছাড়াই ব্রেক্সিটের পথে হাঁটিতে হইবে ব্রিটেনকে। অন্য একটি পক্ষ মনে করেন, পার্লামেন্টে থেরেসা মে-এর রফা গৃহীত না হইলে নূতন একটি গণভোটের আয়োজন করাই সবদিক হইতে সঙ্গত হইবে। এইখানেই শেষ নহে, অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, নরওয়ের মতো করিয়া ইইউ-এর সহিত সম্পর্ক স্থাপন করিতে পারিলে তাহা ব্রিটেনের জন্য সবদিক হইতে লাভজনক হইবে। উল্লেখ্য, ইইউ-এর সদস্য না হইয়াও ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড এসোসিয়েশন (ইএফটিএ) ও ইউরোপিয়ান ইকোনমিক এরিয়া (ইইএ) নামক দুইটি সংগঠনের সদস্যপদের মাধ্যমে বাস্তব অর্থে ইইউ-এর সহিত প্রায় সকল ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করিতেছে নরওয়ে। ইদানীং পরিস্থিতি খারাপ দেখিয়া কিস্তি বাঁচাইবার আশায় থেরেসা মে-এর কিছু লোকজন নরওয়ে মডেলের কথা বলিতে শুরু করিয়াছেন। কিন্তু ইহাতে কাজ হইবে কি? কেননা সর্বশেষ জরিপ হইতে এই তথ্যও জানা যাইতেছে যে উল্লিখিত তিন বিকল্পের সব কয়টির প্রতিই ৪০ শতাংশের আশেপাশে জনসমর্থন রহিয়াছে।
ইউরোপ মহাদেশস্থ অন্য দেশগুলির সহিত সম্পর্কের ধরন লইয়া সমাজদেহে বিরাজমান এহেন গভীর বিভক্তি ব্রিটেনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সহসা নিরাময় করিতে পারিবেন বলিয়া মনে হয় না। বিশেষ করিয়া, ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির অভ্যন্তরে ব্রেক্সিটপন্থি ও ব্রেক্সিটবিরোধী এবং থেরেসা মে-এর পক্ষে-বিপক্ষে উপদলীয় কোন্দলের ব্যাপক বিস্তার এই বিষয়ে কাহাকেও আশাবাদী হইতে সাহায্য করিবে না।
