সাদের পোস্টার থেকে তিন নেতার ছবি সরানোর নির্দেশ

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৩৮

রংপুর সদর-৩ আসনের উপনির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রয়াত জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদসহ তিন নেতার ছবি সম্বলিত জাপা প্রার্থী সাদ এরশাদের পোস্টার অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন রংপুরের রিটার্নিং অফিসার। পাশাপাশি প্রচারণার সময় মোটরসাইকেল ও গাড়ির বহর নিয়ে শোডাউন না করার জন্যও তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার জিএম সাহাতাব উদ্দিন নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

আগামী ৫ অক্টোবর রংপুর সদর-৩ আসনের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের প্রার্থীরা এখন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত রবিবার জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী এরশাদের ভাতিজা আসিফ অভিযোগ করেন সাদ এরশাদ নির্বাচনী পোস্টারে জাপার প্রয়াত চেয়ারম্যান এরশাদের ছবি ব্যবহার করেছেন। যা আচরণবিধির লঙ্ঘন। 

অপরদিকে জনসংযোগের সময় সাদ এরশাদ মোটর সাইকেলের বিশাল বহর ও গাড়ির শোভাযাত্রা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন : ব্রিটিশ পার্লামেন্ট স্থগিত বেআইনি : সুপ্রিম কোর্ট

এদিকে বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান একই ধরনের অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীর বিরুদ্ধে। তিনি গত রবিবার নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড় এলাকায় জনসংযোগ করার সময় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এ অভিযোগ করেন। রিটা রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমি নির্বাচন অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এখন রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব বিষয়টি দেখার।

প্রচারণায় বাঁধা দেয়ার অভিযোগও করেছেন রিটা রহমান। তিনি জানান, তাকে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাকে সভা ও সমাবেশ করতে নিষেধ করা হচ্ছে। 

রিটা রহমান বলেন, বলেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাদ এরশাদ তার নির্বাচনী পোস্টারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাপার প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ, জাপার কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও জাপা মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার ছবিসহ পোস্টার বানিয়ে প্রচারণা চালিয়ে নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। একইসঙ্গে মোটর সাইকেল ও গাড়ির বহর নিয়ে জনসংযোগ করছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। 

জাপার বিদ্রোহী প্রার্থী আসিফ সাংবাদিকদের বলেন, আমি বলেছি, প্রশাসন বিষয়টি দেখবে। প্রয়োজনে আমিও লিখিত অভিযোগ দেবো। 

সার্বিক বিষয়ে জানতে সোমবার দুপুরে রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার জিএম শাহাতাব উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আচারণবিধি লঙ্ঘন করা কোনো পোস্টার লাগানো হলে নির্বাচনবিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে ১১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখছেন। যদি প্রার্থীরা পোস্টার অপসারণসহ শোডাউন বন্ধ না করেন তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর করতে কোনও অন্যায় আচরণের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। 

ইত্তেফাক/কেআই