অকার্যকর পাইলটেজ ব্যবস্থা :অনিরাপদ নৌপথ

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৪২

নৌপথকে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বলিয়া বিবেচনা করা হয়। আর আমাদের দেশ নদীমাতৃক হওয়ায় সেই সুবিধা আরো অধিক পাওয়া যায়। নদীপথে বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত ও মালামাল পরিবহন হইয়া থাকে। তাই নদীপথকে নিরাপদ রাখিতে সরকারি নানা উদ্যোগও রহিয়াছে। তেমনি একটি কার্যক্রম হইল পাইলটেজ ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সরকারি পাইলটদের ভাড়া লয় এবং একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে। সরকারি পাইলটেরা অভিজ্ঞ ও দক্ষ হওয়ায় এই ব্যবস্থায় নৌপথ মূলত নিরাপদ হয়। হাইড্রোগ্রাফি সার্ভের মাধ্যমে নদীপথের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে পাইলটরা অভিজ্ঞ হন। সরকারিভাবে প্রতি বত্সর বিআইডব্লিউটিএর মাধ্যমে নদীর নাব্য, ঝুঁকিপূর্ণ স্রোত, ডেঞ্জার জোন, ডুবোচরসহ সার্বিক অবস্থা রেকর্ড করিয়া তাহা সরকারি পাইলদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অবহিত করা হয়। এই কারণে বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজগুলির নিরাপদ আসা-যাওয়ার জন্য সরকারি পাইলট প্রয়োজনীয় হইয়া পড়ে। অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী পাইলটদের বলা হয় বিট পাইলট আর আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী পাইলটদের বলা হয় মাস্টার পাইলট। বরিশাল নদীবন্দরের পাইলট বিশ্রামাগারে ১৬ জন বিট পাইলট ও আট জন মাস্টার পাইলট রহিয়াছেন। কিন্তু বর্তমানে এই পাইলটেজ ব্যবস্থা প্রায় ভাঙিয়া পড়িয়াছে। বিআইডব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগের অধীন এই ব্যবস্থা বাস্তবে কার্যকর নাই বলিলেই চলে। এই কারণে বাড়িতেছে দুর্ঘটনাও। জাহাজডুবির কারণে হুমকির মুখে রহিয়াছে নৌ চ্যানেলগুলি। জাহাজ চলাচল বিধিমালা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন চ্যানেলে জাহাজগুলির নিরাপদ আসা-যাওয়ার জন্য বিআইডব্লিটিএ হইতে সরকারি পাইলটেজ সার্ভিস নেওয়ার বিধান থাকিলেও তা মানা হইতেছে না। প্রতি ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক পণ্যবাহী জাহাজ বরিশাল নদীবন্দর দিয়া যাতায়াত করে। ইহার মধ্যে মাত্র চার হইতে পাঁচটি জাহাজ পাইলটেজ সার্ভিস লইয়া থাকে। পাইলট ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো কার্যক্রম বাস্তবে নাই বলিলেই চলে। যেইসব জাহাজ এই নিয়ম মানিতেছে না, তাহাদের বিরুদ্ধে অভিযানের নিয়ম থাকিলেও ২০১৮ সালে গাবখান চ্যানেলে মাত্র একটি অভিযান পরিচালিত হইয়াছিল। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত দুটি অভিযানের খবর পাওয়া গিয়াছে।  

জানা গিয়াছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলির সরকারি পাইলট না নেওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণ হইল এই জাহাজগুলিতে চোরাই তৈলসহ নানা অবৈধ পণ্যসামগ্রী পরিবহন করা হয়। নদীপথে অবৈধ পণ্য পরিবহনে রাজস্ব ফাঁকিসহ ঘটিতেছে একের পর এক দুর্ঘটনাও। গত কয়েক মাসে মেঘনা ও গজারিয়া নদীতে পণ্যবাহী জাহাজ নিমজ্জিত হইয়াছে। মেঘনা নদীতে ডুবোচরের পাশাপাশি কার্গো নিমজ্জিত থাকায় চলাচল হইয়া পড়িয়াছে ঝুঁকিপূর্ণ। এই সব হইতে মুক্তির পথ হইতে পারে সরকারি পাইলটদের নিয়োজিত করা। ইহার ফলে নৌপথ যেমন নিরাপদ হইবে তেমনি সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়াও বন্ধ হইবে। আমরা আশা করি, কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে আরো সক্রিয়তা প্রদর্শন করিবে। যে কোনো মূল্যে নৌপথকে নিরাপদ করিতে হইবে কারণ ইহার উপরই দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যত্ অনেকাংশে নির্ভরশীল।