নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের ৩৬ টাকা কেজি দরে চাল সংগ্রহ অভিযানের ঘোষণার পরে ধানের দাম বেড়েছে মণ প্রতি ১০০-২০০ টাকা পর্যন্ত। ঘোষণার আগে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা ৫৫০-৬০০ টাকা দরে বাজারে ধান বিক্রি করেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশির ভাগ কৃষক।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ে এ বছর আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল এক লাখ ৩৭ হাজার ১৪১ হেক্টর আর অর্জিত হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৭৯০ হেক্টর।
খাদ্য বিভাগ সূত্র মতে, চলতি মৌসুমে সরকার ৩৬ টাকার দরে চাল সংগ্রহ করার উদ্যাগ গ্রহণ করেছে। ঠাকুরগাঁও থেকে চালকল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করা হবে। ফলে বর্তমানে বাজারে মণ প্রতি ৭০০ টাকা দাম পাচ্ছে কৃষকরা। তাছাড়া জেলায় বরাদ্দের তালিকা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সরকার সংগ্রহ অভিযানের পরেও ঠাকুরগাঁওয়ে ধানের দাম গত বছরের তুলনায় কম হওয়ায় খুশি হতে পারছেন না কৃষক। গত বছরের এই সময়ে ৮০ কেজি আমন ধান এক হাজার ৯০০ থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ বছর প্রথম ৫০০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি করেছে।
সদর উপজেলার চাষি আলাউদ্দিন বলেন, নতুন ধান কম দামে বাজারে বিক্রি করেছি, দাম তেমন পাইনি। বর্তমান বাজারে ধান বিক্রি করলে লোকসান কিছুটা হলেও কমতো।
কৃষকরা আরো অভিযোগ করেন, তাদের কাছে যখন ধান ছিল তখন যদি সংগ্রহ অভিযানের ঘোষণা দিত সরকার তাহলে ধান চাষে লাভবান হতে পারতেন অনেকে। এখন কৃষকের হাতে তেমন ধান নেই হঠাত্ বাজারে দাম বৃদ্ধি পেয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন অনেকেই।
জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদ হাসান রাজু জানান, বর্তমান বাজারে ধানের আমদানি কম এবং ধানের দামের সাথে চালের দামের সংগতি নেই। এক্ষেত্রে মিল মালিকদের কোনো কারসাজি নেই। মিলে যে পরিমাণ ধান থাকার কথা সেই পরিমাণে ধান নেই। তাই চাল উত্পাদনে কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। জেলায় বেশির ভাগ মিলারদের কাছে মজুদ চাল নেই বলেও তিনি জানান।
ঠাকুরগাঁও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাবুল হোসেন বলেন, সরকার এবার চাল সংগ্রহ অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে। তালিকা শিগগিরই আমরা হাতে পাবো। বাজারে কৃষক এখন ধানের দাম ভালো পাচ্ছে। বর্তমানে ধানের দাম অব্যাহত থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন।
