নেপালিদের পালাতে সহায়তা করেছেন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা!

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৫:২৭

সম্প্রতি র‌্যাব যখন রাজধানীর বেশ কয়েকটি ক্লাব ও ভবনে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চালাচ্ছিল, ঠিক সে সময় ঢাকা থেকে ক্যাসিনো পরিচালনাকারী বেশ কিছু নেপালি নাগরিক পালিয়ে যান। সেগুনবাগিচার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাদের পালিয়ে যেতে একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশের দাবি নেপালিদের পালাতে পুলিশের কোনো সদস্য সহযোগিতা করেননি। এদিকে ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত এই নেপালিদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

নেপালিরা যে ভবন থেকে পালিয়ে গেছেন সেই ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করে র‌্যাব। সেই ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার রাত ১০টার দিকে কয়েকজন লোক ওয়াকিটকি হাতে বাসার মূল গেট দিয়ে ঢোকে। এরপর তারা লিফটে করে ভবনের একটি ফ্ল্যাটে যায়। সেখান থেকে তারা রাত সাড়ে ১১টার দিকে বের হয়ে আসে। এ সময় তাদের একজনের হাতে একটি ব্যাগ ছিল। র‌্যাবের ধারণা ঐ ব্যাগে টাকা ছিল। তারা চলে যাওয়ার পর রাত পৌনে দুইটার দিকে ভবনের লিফট বন্ধ থাকায় সিঁড়ি দিয়ে নামেন কয়েকজন যুবক। ব্যাগ নিয়ে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যান। সবার মধেই আতঙ্ক আর ভয়ের ছাপ। একে একে ঐ ভবন থেকে এভাবে ১৫ জন বের হন।

এ প্রসঙ্গে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, শুধু পুলিশ সদস্যরাই ওয়াকিটকি ব্যবহার করে না, গোয়েন্দা সংস্থাসহ বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরাও এটা ব্যবহার করেন। নেপালিদের আত্মগোপনের বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বিভিন্ন টিম কাজ শুরু করেছে। সিসিটিভির ছবি পরীক্ষা করে ওয়াকিটকি হাতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

বিশেষ একটি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকায় ক্যাসিনোতে কাজ করা নেপালিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিলেন একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা। আর ঐ কর্মকর্তার সঙ্গে পুলিশের একজন কনস্টেবলও ছিলেন। এ বিষয়ে রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক বলেন, নেপালিদের পালাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ জড়িত কি না নিশ্চিত নই। সিসিটিভির ফুটেজে যদি প্রমাণ হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ জড়িত, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাড়ে তিন হাজার জঙ্গি: ডয়েচে ভেলে

স্থানীয়রা জানান, ঐ বাসার ছয় তলার একটি ফ্ল্যাটে দুই মাস ধরে ৪০ হাজার টাকায় ভাড়া থাকত নেপালিরা। আর নেপালিদের ভাড়া নেওয়ার এই পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন একজন বাংলাদেশি; যার নাম মাছুম। মাছুম নেপালিদের মোহামেডান ক্লাবের ট্রেইনার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বাসাটি ভাড়া করে দেন।

পুলিশ বলছে, রাজকুমার, দীনেশ শর্মা, সুরেশ রাজকুমার, বিনোদ, দীনেশ কুমারসহ ১২ থেকে ১৫ জন নেপালি ঢাকায় ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত। তারা ২০১৫ সাল থেকে এ দেশে থাকছেন। তারা বিপুল পরিমাণ টাকাও পাচার করতে পারেন। তবে তারা যে সবাই বাংলাদেশ ত্যাগ করেছেন তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। কেউ কেউ আত্মগোপনে থাকতে পারেন।

ইত্তেফাক/অনি