রে জা উ ল ক রি ম খো ক ন
ছয় বছর আগে ২০১৩ সালে ‘ইশাক’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে নায়িকা হিসেবে অভিষেক হয়েছিল আমায়রা দাস্তুরের। রোমান্টিক ধাঁচের ছবিটিতে তার বিপরীতে নায়ক ছিলেন প্রতীক বাব্বর। বক্স অফিসে কোনো সাড়াই জাগাতে পারেনি আমায়রার প্রথম অভিনীত হিন্দি সিনেমাটি। তবে মডেলিং থেকে আসা এই সুন্দরী নিজেকে সম্ভাবনাময় অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পেরেছিলেন রুপালি পর্দায় অভিনয়ে আসার আগেই। মাত্র ১৬ বছর বয়সে মডেল হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। বেশ কিছু আলোচিত ও জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনে আমায়রার উজ্জ্বল উপস্থিতি সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। গত ছয় বছরে তাকে হিন্দি, তামিল, তেলেগু, ইংরেজি মিলিয়ে ১১টি সিনেমায় দেখা গেছে। সময়ের হিসেবে অভিনীত সিনেমার সংখ্যা তেমন বেশি না হলেও এ নিয়ে ২৬ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর কোনো আক্ষেপ, দুঃখ কিংবা হতাশা নেই। আমায়রা মনে করেন, এখন বেশ ভালো সুযোগ আছে তার জন্য, ‘এখন যে ধরনের অভিনয়ে সুযোগ পাচ্ছি, তাতে আমি সন্তুষ্ট ও খুশি। বলা যায়, আগের তুলনায় বেশ ভালো সুযোগ পাচ্ছি। ইদানীংকার ছবিগুলোয় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রেই অভিনয় করছি। কেউ যদি আমাকে ভালো ছবি, ভালো চরিত্রে অফার না করে তাহলে আমি ভালো কাজ করব কিভাবে? আগামীতে আমাকে তুলনামূলক ভালো ছবিতে অর্থবহ রোলে দেখতে পাবেন দর্শক।’ দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কিংবা নিন্দায় তেমন আলোড়িত হন না তিনি। প্রশংসা শুনে তার মাথা গরম হয় না, একইভাবে সমালোচনায় ভেঙেও পড়েন না। এ প্রসঙ্গে আমায়রা দাস্তুর বলেন, ‘প্রত্যেকেরই সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, সুন্দরী হলেই সে কোনোভাবেই ভালো অভিনেত্রী হতে পারে না।’ ‘কুংফু ইয়োগা’, ‘জাজমেন্টাল হ্যায় ক্যায়া’, ‘মিস্টার এক্স’, ‘রাজমা চাওল’, ‘কালাকান্দি’ প্রভৃতি সিনেমায় দর্শক তাকে দেখেছেন। অভিনয়ের ব্যাপারে অনেকটাই সতর্ক এখন তিনি। ‘ধীরে সুস্থে এগোতে চাই, হুটহাট করে কিছু করার পক্ষে আমি নেই। দিন শেষে এটাই হয়তো সুফল বয়ে আনবে। কোয়ান্টিটির চাইতে কোয়ালিটিকে গুরুত্ব দিতে চাই।’ গত সপ্তাহে আমায়রাকে দেখা গেছে নতুন সিনেমা ‘প্রশাস্থানাম’-এ। সঞ্জয় দত্ত, মনীষা কৈরালা, জ্যাকি শ্রফ, আলি ফজল, চাঙ্কি পান্ডের মতো তারকাশিল্পীদের পাশে তাকে কোনোভাবেই ম্লান কিংবা অনুজ্জ্বল মনে হয়নি। এ ছবিতে আমায়রা অভিনয় করেছেন আমেরিকা প্রবাসী এক ভারতীয় তরুণী গুঞ্জনের ভূমিকায়। মেয়েটি তার পলিটিক্যাল থিসিস পেপার তৈরির কাজে ভারতে আসে। এখানে আসার পর ঘটনাচক্রে তার সঙ্গে আলাপ-পরিচয় হয় বিখ্যাত এক রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান আয়ুষ্মানের। তখন রাজনৈতিক অঙ্গনের সদর-অন্দরের অনেক কিছুই তার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এমন একটি রোলে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত আমায়রা, ‘এ ধরনের মাসালা হিন্দি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য উন্মুখ হয়েছিলাম। নামীদামি বেশ ক’জন বিখ্যাত শিল্পীর সঙ্গে এই ছবিতে কাজ কার সুযোগ পাওয়াটা ছিল আমার ক্যারিয়ারের আরেকটি বড় অর্জন। প্রথম যখন এ ছবিতে কাজ করার প্রস্তাব পেয়েছিলাম, তখন জানতে পারি, বেশ নামীদামি অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে অভিনয় করতে পারব। ব্যাপারটা আমাকে খুব উদ্দীপ্ত করেছিল। ছবির গল্পটিও দারুণ নাটকীয়, টানটান উত্তেজনাপূর্ণ বলা চলে।’ ‘মিস্টার এক্স’, ‘কালাকান্দি’, ‘রাজমা চাওল’, ‘জাজমেন্টাল হ্যায় ক্যায়া’ ছবিতে অভিনয়ের পর এবার ‘প্রশাস্থানাম’ আমায়রার ক্যারিয়ারে নতুন জোয়ার সৃষ্টি করেছে বলা চলে। আগামীতে তাকে ‘মেড ইন চায়না’ ছবিতে দেখা যাবে। ঐ ছবিটি নিয়েও দারুণ উচ্ছ্বসিত তিনি। ‘এ ছবিতে বোমান ইরানিও আছেন। তিনিও আমার মতো একজন পার্সি। আমরা দুজন একসঙ্গে অভিনয় করেছি এ ছবিতে। এখানে আমি একজন রাগী স্বভাবের গুজরাটি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। এছাড়াও ‘কোই জানে না’ ছবিটি করেছি আমি, যা আগামী বছর মুক্তি পাবে,’ নিজের সাম্প্রতিক ব্যস্ততা নিয়ে কথাগুলো বললেন আমায়রা।
