মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে শুরু হয়েছে বিজয় উত্সব। লাল সবুজ রঙে ছেয়ে গেছে পুরো চত্বর। শিশুদের আনাগোনা আর মঞ্চে মঞ্চে মুক্তিযুদ্ধের গানে কবিতায় মুখরিত হয়ে পুরো জাদুঘর পরিণত হয়েছে উত্সব প্রাঙ্গণে। গতকাল সোমবার বিকালে বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘তরুণের হাতে মুক্তির দায়ভার : স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী হোক স্বদেশের সুবর্ণ সময়’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী ‘মানবাধিকার দিবস থেকে বিজয় দিবস’ শীর্ষক উত্সব। গতকাল উদ্বোধনী দিনে ‘মানবাধিকার ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিষয়ে ভাষণ দেন মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান। এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারিক আলী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে স্পন্দন এর শিল্পীরা। দলীয় আবৃত্তিতে অংশ নেয় কথা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র। দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী। সবশেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় ক্যালিক্স প্রিক্যাডেট হাই স্কুল ও ব্রাইট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এদিকে প্রতিদিন বিকাল চারটা থেকে জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে। এছাড়া মিরপুরে জল্লাদখানা বধ্যভূমি স্মৃতিপীঠ প্রাঙ্গণে ১৪ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বরে আয়োজিত হয়েছে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। ১৬ ডিসেম্বর সকালে শিশু-কিশোর আনন্দানুষ্ঠান ও সন্ধ্যায় পরিবেশিত হবে যাত্রাপালা। আজ মঙ্গলবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় দিনে “এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা, সুষম বিকাশ ও বাংলাদেশ” শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করবেন আবুল কালাম আজাদ, মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, তরুণ আলোচক হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশনের কো-চেয়ারম্যান ফাল্গুনী মজুমদার এবং দর্শকদের সাথে প্রশ্নোত্তর ও মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করবে কণ্ঠশীলন, দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করবে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, সাংস্কৃৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুল ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারাল আর্টস বাংলাদেশ ।
চারুকলার সাত দশক পূর্তি উত্সব উদযাপন করলেন শিল্পী, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় গানে, কথায়, স্মৃতিচারণায় মুখর ছিল এই শিল্পাঙ্গন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ছেলে প্রকৌশলী ময়নুল আবেদিন। অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রদর্শনী উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস।
অনুষ্ঠানে দেশের শিল্পকলার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচ কিংবদন্তি শিল্পী মুর্তজা বশীর, সৈয়দ জাহাঙ্গীর, মুস্তাফা মনোয়ার, সমরজিত্ রায় চৌধুরী ও রফিকুন নবীকে প্রদান করা হয় সম্মাননা।
আখতারুজ্জামান বলেন, আজ যারা সম্মাননা পেলেন তারা চারুকলার তারুণ্যের ঐতিহ্যকে তুলে ধরলেন। তারা প্রত্যেকেই শিল্পাচার্যের হাত ধরে আজকের এই অবস্থানে এসেছেন। তাদের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে অনেক শিক্ষক ও শিল্পী। সামনের দিনগুলোতে এ অনুষদের মাধ্যমে নিরীক্ষামূলক ও গবেষণাধর্মী কাজ বাড়াতে হবে। অনুষদের ১ ও ২ নং জয়নুল গ্যালারিতে দর্শনার্থীদের জন্য মেলে ধরা হয়েছে সাবেক ও বর্তমান বরেণ্য শিক্ষক-শিল্পীদের চিত্রকর্ম। এই প্রদর্শনী চলবে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে এই শিল্পায়োজন।
