খুলনায় হত্যা ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়াচ্ছে কিশোররা

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২৬

এনামুল হক, খুলনা অফিস

খুলনায় হত্যা, ধর্ষণ, মাদক ব্যবসা ও সেবন এবং ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিশোররা। এসব কিশোর অপরাধীর অবস্থান বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নগরীর বাইপাস সড়কের পার্শ্ববর্তী এলাকায়। একাধিক কিশোর অপরাধী গ্রুপকে কঠোর নজরদারিতে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীর খালিশপুর পৌরসভা, পার্কের মোড়, হাউজিং বাজার ও আলমনগরে একটি গ্রুপ, খানজাহান আলী (র.) সেতু ও পুরাতন রূপসা এলাকায় একটি গ্রুপ, সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি গ্রুপ, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে নতুন রাস্তার মোড় এলাকায় একটি গ্রুপ, জিরোপয়েন্ট থেকে আফিল গেট বাইপাস সড়কে একটি গ্রুপ, খুলনা পাবলিক কলেজ মোড় থেকে মুজগুন্নি এলাকায় একটি গ্রুপ, দিঘলিয়া উপজেলার তেঁতুলতলা মোড়ে একটি গ্রুপ, বটিয়াঘাটা উপজেলা সদরে একটি গ্রুপ এবং ফুলতলায় উপজেলা সদরে একটি গ্রুপ রয়েছে। প্রত্যেকটি গ্রুপে কমপক্ষে ৮/১০ জন সদস্য থাকে।

গত বছরের ২০ জানুয়ারি খুলনা পাবলিক কলেজে কনসার্ট চলাকালে সমবয়সী বন্ধুদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ফাহমিদ তানভির রাজিন নিহত হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বয়স ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। এদের মধ্যে রিফাত ও রিজভি ‘ডেঞ্জার বয়েজ’ গ্রুপের সদস্য। এছাড়া সাব্বির ও ফাহিম ইসলাম মনি ‘গোল্ডেন বয়েজ’ গ্রুপের সদস্য।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, কিশোর অপরাধীদের মধ্যে একটু সিনিয়রদের গ্রুপটি ‘ডেঞ্জার বয়েজ’ নামে পরিচিত। মাদক বিক্রি ও সেবনসহ ছিঁচকে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিশোর গ্রুপ ‘টিপসি বয়েজ’ নামে পরিচিত। এ গ্রুপের সদস্যরা বেশিরভাগই বস্তি এলাকার। এছাড়া স্কুল পড়ুয়াদের আরেকটা গ্রুপের নাম ‘গোল্ডেন বয়েজ’। ডেঞ্জার বয়েজ ও গোল্ডেন বয়েজ গ্রুপটি পরিচালিত হয় নগরীর বৈকালী বাজার এলাকা থেকে। অপরদিকে, টিপসি গ্রুপটি পরিচালিত হয় নগরীর বয়রা পালপাড়া এলাকা থেকে। ছোট ছোট অপরাধ থেকে শুরু করে কিশোরদের এই গ্রুপগুলো খুন ও ধর্ষণের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে।

গত ৩০ জুন নগরীর পশ্চিম বানিয়াখামার বিহারী কলোনী এলাকার একটি বাসায় নিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ৭ কিশোর। গত ২৮ জানুয়ারি খুলনা মহানগরীর আফিলগেট কলোনির এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে পরিত্যক্ত ভবনের ছাদে নিয়ে গণধর্ষণ করে।

 এদিকে, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রূপসা হাইস্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী খলিলুর রহমান সিয়ামকে (১৫) খুন করা হয়। সর্বশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর পুলিশ নগরীর সদর থানার জাহিদুর রহমান সড়ক এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাজা ও মাদক বিক্রির ৩৮ হাজার টাকা উদ্ধার করে। এ সময় কিশোরসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ব্যাপারে নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার বিএম নুরুজ্জামান বলেন, খুলনা মহানগরীতে নামধারী কোনো গ্যাং রয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য নেই। তবে একাধিক ‘গ্রুপ’ বা ‘বন্ধু মহল’ রয়েছে। তাদের কার্যক্রম আমাদের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান বলেন, ইভটিজিং, মাদকসহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতার জন্য ৯টি উপজেলায় কার্যক্রম চলছে। যদি অপরাধী গ্রুপের সন্ধান পাওয়া যায় অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

র্যাব-৬ খুলনার অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ মোহাম্মদ নূরুস সালেহীন ইউসুফ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন বাজার ও বাইপাস সড়কের আশপাশে আমাদের নজরদারি রয়েছে।