প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্কার হয়নি ঠাকুরগাঁও হাসপাতাল মর্গ

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২৬

নেই পর্যাপ্ত আলো, নষ্ট হচ্ছে আলামত

তানভীর হাসান তানু, ঠাকুরগাঁও

প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গের কোনো সংস্কার করা হয়নি। নেই পর্যাপ্ত আলো। সেকেলে পদ্ধতিতে হাতুড়ি বাটাল করাত আর ছেনি ব্যবহার করে কাটা হয় মরদেহ। নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন মামলার আলামত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জরাজীর্ণ ভবনে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে মরদেহ কাটার ঘরটি। এখানে নেই কোনো পরিচ্ছন্নকর্মী। নোংরা ও দুর্গন্ধে ভরা মর্গের চারদিক। মর্গের আশপাশ দিয়ে চলাচলকারীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয় এই মর্গে। মর্গে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখার নেই কোনো আধুনিক ব্যবস্থা। প্লাস্টিকের কৌটায় নমুনা রাখা হয় যত্রতত্র। বিশেষ করে মরদেহের গায়ে থাকা আলামতগুলো চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া মর্গের নিজস্ব কোনো ল্যাবরেটরি না থাকায় বিভিন্ন হাসপাতাল ও মহাখালীর জনস্বাস্থ্যে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য পাঠাতে হয়। ফলে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় রিপোর্টের জন্য। কর্মরত ডোম সুকুমার জানান, শুরু থেকে মাস্টাররোলে চাকরি করে আসছেন। অন্য কেউ দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসছে না তাই তিনি এ পেশা ছাড়তেও পারছেন না। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় সাত হাজার লাশের ময়নাতদন্ত করেছেন। ময়নাতদন্তের পর পর্যাপ্ত পানির অভাবে চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক প্রভাষ কুমার দাশ জানান, মর্গটি খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। মর্গে আলো স্বল্পতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, অনেক সময় অর্ধগলিত মরদেহ বা পানিতে পচে যাওয়া দেহের ময়নাতদন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে অপমৃত্যুর মরদেহগুলো আসে অনেক দেরি করে, ফলে পচন ধরা মরদেহ ও ফাঁসিতে মৃত্যু হওয়া মরদেহের গলার চিহ্নগুলো সহজে চোখে পড়ে না। এর ফলে হত্যার কারণ চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এটি সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য আবেদন পাঠানো হয়েছে। সংস্কার করা হলে আরো লোকবল নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।