ব্রিটেনে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট ইস্যুতে গণভোটে হেরে অঙ্গীকার রক্ষা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন ডেভিড ক্যামেরন। আর চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন পরের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। এবার পার্লামেন্ট স্থগিত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বরিস জনসনকে পদত্যাগ করাতে জোর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যদিও তিনি পদত্যাগ করবেন না বলে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে। কিন্তু গতকাল পার্লামেন্টে যেভাবে বরিস বিরোধিতার মুখে পড়েছেন তাতে তাকেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
রানিকে মিথ্যা বলেছেন বরিস!
ব্রিটেনের রানী রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান। দীর্ঘদিনের অলিখিত প্রথা এটাই যে, রানি সবসময় সরকারের পরামর্শে কাজ করবেন। তবে কোনো রাজনৈতিক বিতর্কে কখনোই কোনো পক্ষ নেবেন না, মতামত দেবেন না। কয়েক দশক ধরে দল-মত নির্বিশেষে ব্রিটেনের রাজনীতিকরা অলিখিত একটি চুক্তি এবং প্রথা অনুসরণ করছেন যে তারা কখনোই রানিকে দিয়ে এমন কিছু করাবেন না বা বলাবেন না যাতে তিনি কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের বিতর্কে পড়তে পারেন। কিন্তু সরকারের পরামর্শে পার্লামেন্ট স্থগিত করার তার এক নির্দেশ বেআইনি ঘোষণা করে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সেই বিতর্কেই পড়ে গেছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। পাঁচ সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিত করার সিদ্ধান্তে ক্ষিপ্ত ছিলেন বিরোধীরা। নজিরবিহীন এই রায়ে রানি যে চরম বিব্রত হয়েছেন এ নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে কোনো বিতর্ক নেই। বিরোধী রাজনীতিকরা এখন খোলাখুলি বলছেন, পার্লামেন্ট স্থগিত করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জেনে-বুঝে রানিকে মিথ্যা বলেছেন, বিভ্রান্ত করেছেন এবং এর জন্য রানির কাছে তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজর বলেছেন, ভবিষ্যতে আর কখনোই কোনো প্রধানমন্ত্রী যেন রানি এবং পার্লামেন্টের সঙ্গে এমন আচরণ না করেন।
পদত্যাগ করবেন বরিস?
সুপ্রিম কোর্টে প্রধানমন্ত্রী বরিসের ঐতিহাসিক পরাজয় ঘটেছে। রায়ের পর নিউ ইয়র্কে বরিসের কাছে যখন সাংবাদিকরা প্রথমে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলেন তখন তিনি বলেছিলেন, আমাকে একটু বিশ্রামে থাকতে দিন। যদিও পরে তিনি পদত্যাগ না করার ইচ্ছার কথা জানান। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, বরিস না করলেও এমপিরা তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছেন। ফলে সেই চাপের মুখে তিনি কতদিন পদে থাকতে পারবেন সেটাই প্রশ্ন। এসএনপির এমপি আয়ান ব্ল্যাকফোর্ড বলেছেন, এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। একই দলের নেতা নিকোলাস স্টারজিওন বলেন, বরিস এমন একজন প্রধানমন্ত্রী যার সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছে। ফলে তার ওই পদে থাকার যোগ্যতা নেই। আর রানিকে ‘মিথ্যা’ বলা নিয়েও বরিস চাপে পড়েছেন। গুঞ্জন রয়েছে, বরিস জনসন শেষ পর্যন্ত পদত্যাগও করে বসতে পারেন। আর গতকাল পার্লামেন্টের অধিবেশন ফের বসেছে। এতে বরিসবিরোধীরা সক্রিয় ছিলেন।
এদিকে বিভিন্ন বিরোধী রাজনীতিবিদরা জনসনের পদত্যাগের দাবি তুললেও লেবার পার্টির প্রধান করবিন বলছেন ভিন্ন কথা। গতকাল বিবিসি রেডিওকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, জনসনকে নামানোর সময় এটি নয়। তার বদলে ৩১ অক্টোবর কোনো চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট যাতে কার্যকর না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পার্লামেন্টের উপর জোর দেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে ব্রেক্সিট আর জনসনের ভবিষ্যত্ কী হবে তা জানা যাবে গতকাল থেকে শুরু হওয়া পার্লামেন্টের অধিবেশনে। -বিবিসি, ও এক্সপ্রেস ডট কো ডট ইউকে
