এক বনের ঝোপের ভেতর টুনির বাসা। বাসাটি বড়ো সুন্দর। প্রতিদিন সকালে উঠেই টুনি বাসাটি পরিষ্কার করে। একটি খড় উঁচু হয়ে গেছে, সেটিকে নিচে নামাতে হবে। আরেক পাশে বাসাটি ভেঙে গেছে, সেটিও ঠিক করতে হবে। রাতের বাতাসে একটা পাশ ভেঙে গেছে, সেটিও ঠিক করতে হবে। তারপর ঝাড়মুছ করে সুন্দর করে সাজায় টুনির বাসাটি। প্রতিদিনই এই কাজ করে।
আজকে ঘরটি সাজানোর আরো একটি কারণ আছে। টুনির বন্ধু খরগোশ আসবে বেড়াতে। ওরা সারাদিন ঘুরে বেড়াবে বনে। আর গল্প করবে। মজার মজার খাবার খাবে। তাই বাসাটি সুন্দর করে সাজিয়ে ফুড়ুত করে উড়ে গেল নদীতে। মুখ ধুয়ে বাসায় ফিরে এসে নাশতা করল। তারপর ভাঙা আয়নাটি দেখে সাজল সুন্দর করে।
খরগোশ কী করে টুনির বন্ধু হলো?
সেটি বিরাট বড় এক ইতিহাস।
টুনি যখন ছোট ছিল তখন এক বিকেলে ওর মা-বাবা দূরে কোথাও গিয়েছিল খাবার আনতে। সেখান থেকে আর ফেরেনি। সেদিনই বিকেলে একটা ঝড় হয়। ঝড়ে ছোট্ট টুনি বাসার নিচে পড়ে গেল আর টুঁইটুঁই করে কাঁদতে লাগল। ওর মা-বাবা কোথায় যে গেল আর ফিরে আসেনি। মনে হয় শিলাবৃষ্টিতে মারা গেছে। যাহোক, সেদিনই খরগোশ গাছের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় সেই তুলতুলে টুনিকে কাঁদতে দেখল। তখন খরগোশ বুদ্ধি করে পাশের ঝোপে একটি বাসা বানিয়ে ওকে থাকার ব্যবস্থা করে দিল। আর ছানাটির খাবারের জন্য পাশের আরেকটি পাখিকে বলল। ওই পাখির নাম কী?
ওই পাখির নাম হলো হলুদ পাখি।
তারপর খরগোশটি প্রতিদিন এসে টুনির খবর নেয়।
তখন থেকেই ওরা খুব ভালো বন্ধু হয়ে গেল।
আজ সকালে কথামতো টুনির বাসায় আসে খরগোশ। টুনি বন্ধুকে নাশতা খাওয়ায়। গল্প করে। তারপর দুজন মিলে বনে বেড়াতে বের হয়ে যায়। খরগোশ হাঁটছে। সঙ্গে সঙ্গে টুনি লাফিয়ে লাফিয়ে ছুটছে। খরগোশ বলল, আমার অনেক ভয় হয় বনে হাঁটতে। যদি বাঘ এসে আমাকে খেয়ে ফেলে।
টুনি বলল, আমি থাকতে তোমার কোনো ভয় নেই। বাঘকে দেখো কীভাবে তাড়িয়ে দিই।
খরগোশ হাসল। বলল, বাঘ যে ভয়ংকর আর বড়ো তুমি কী করে পারবে?
টুনি বলল, দেখো পারব। বুদ্ধি থাকলে অনেক ভয়ংকর প্রাণীকেও হারিয়ে দেওয়া যায়। আজকে বনের ভেতরে অনেক সুন্দর একটা জায়গায় তোমাকে নিয়ে যাব।
টুনির কথা শুনে খরগোশ হাসে। তুমি ছোট্ট একটা পাখি, তুমি কী করে একটা বাঘকে তাড়াবে?
টুনি বলল, তুমি চিন্তা কোরো না। দেখো ঠিকই তাড়িয়ে দেব।
ওরা যেতে যেতে অনেক দূরে চলে গেল। হঠাত্ একটি বাঘ একেবারে খরগোশের সামনে এসে পড়ল। বাঘ বলল, ভালো নাশতা পাওয়া গেল।
এখন কী করে বন্ধুকে বাঁচানো যায়, ভাবে টুনি।
যেই বাঘটি ভাবল খরগোশকে ধরবে ঠিক সেই সময়েই টুনি বাঘের কানের ভেতর ঢুকে গেল। ঠোঁট দিয়ে খোঁচাতে লাগল। বাঘ বলল, এমন ঝামেলায় তো কখনো পড়িনি। কী করবে বাঘ? কান সামলাবে না কি খরগোশ খাবে?
ভয়ে কাবু হয়ে গেল বাঘ। কীসের আবার খরগোশ খাওয়া? বাঘ জান বাঁচানোর জন্য লেজ তুলে ছুটতে লাগল। আর তাতেই কি রক্ষে? টুনি বাঘের কান থেকে বের হয়ে চোখের সামনে উড়তে লাগল। শেষে বাঘ দিশেহারা হয়ে কোন দিকে যে গেল!
খরগোশ বেঁচে গেল। টুনির বুদ্ধি দেখে খরগোশ খুব খুশি।
টুনি বলল, তখন কী বলেছিলে মনে নেই? এখন আবার খুশি কেন?
খরগোশ বলল, খুশি হব না আবার! তোমার বুদ্ধি দেখেই তো খুশি। আসলে বুদ্ধি থাকলে অনেক বড়ো বিপদ থেকে বাঁচা যায়।
