কুষ্টিয়ায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিত্সক-কর্মচারী সংকটে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে রোগীদের চিকিত্সা কার্যক্রম। হাসপাতালে মঞ্জুরিকৃত পদ সংখ্যা থেকে চিকিত্সক-কর্মচারী অপ্রতুলসহ অবকাঠামো ও শয্যা সংকটে চিকিত্সা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে হাসপাতালে ভর্তি ও আউটডোরে চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২০০৫ সালের ১ ডিসেম্বর তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন এবং ঐ ভবন উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে ১৫০ বেডসম্পন্ন হাসপাতালটি ২৫০ বেডে রূপান্তরিত হয়।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি এই হাসপাতালটিতে মঞ্জুরিকৃত ৬০টি পদের অনুকূলে মেডিসিন কনসালটেন্ট, শিশু, অর্থপেডিকস ও গাইনিসহ বিভিন্ন পদে ১৯ জন ডাক্তারের পদ দীর্ঘদিন রয়েছে শূন্য। চিকিত্সকের পাশাপাশি সিনিয়র ও জুনিয়র স্টাফ নার্স পদে ১২ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারী পদে ১৩ জনসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ৪০টি পদ শূন্য দীর্ঘকাল। ফলে ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারী সংকটে হাসপাতালে জোড়াতালি দিয়ে চলছে চিকিত্সা কার্যক্রম। ফলে হাসপাতালে সেবাগ্রহীতা রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগের অন্ত নেই। এদিকে হাসপাতালের অবকাঠামোগত ও শয্যাসংকট প্রকট হওয়ায় বাড়তি রোগীদের ওয়ার্ডে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। ফলে নিরুপায় রোগীরা চিকিত্সা নিচ্ছেন হাসপাতালের বারান্দায়। রোদ কিংবা বৃষ্টির সময় বারান্দায় থাকা রোগীদের সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। ওয়ার্ডের মেঝে ও বারান্দায় থাকা রোগীরা চিকিত্সা পেলেও প্রচণ্ড গরমে তাদের অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হয়। ভর্তি রোগী আলাউদ্দিনের মেয়ে রাবেয়া জানান, গত দুদিন যাবত্ তিনি তার অসুস্থ পিতাকে নিয়ে হাসপাতালের বারান্দায় চিকিত্সা করাচ্ছেন। হাসপাতালের চিকিত্সাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা নাজুক হওয়ায় ভর্তি রোগী ও স্বজনদের দুঃসহ যন্ত্রণা-কষ্ট পোহাতে হচ্ছে বলে তিনি জানান। ইনডোর ও আউটডোরে বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে চিকিত্সা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে বলে ডাক্তাররা স্বীকার করেন। এদিকে দীর্ঘকাল সিনিয়র মেডিসিন কনসালটেন্টসহ অন্যান্য বিভাগে ১৯টি ডাক্তার পদ শূন্য থাকায় হাসপাতালে চিকিত্সা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা অনেকটা ইন্টার্নি ও জুনিয়র ডাক্তারদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে জটিল ও সংকটাপন্ন রোগীরা তাত্ক্ষণিক সুচিকিত্সা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চিকিত্সক-কর্মচারী সংকট ছাড়াও হাসপাতালে রয়েছে দালালের দৌরাত্ম্য। এ হাসাপাতালে রোগীদের নামমাত্র ওষুধ প্রদান ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়।
হাসপাতালের তথ্যমতে, ২৫ সেপ্টেম্বর এই হাসপাতালটিতে রোগী ভর্তি ছিল ৭৮১ জন। গড়ে প্রতিদিন এ হাসপাতালটিতে রোগী ভর্তি থাকে ৮০০ থেকে সাড়ে ৮০০ রোগী। এছাড়া প্রতিদিন আউটডোরে গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ রোগীকে চিকিত্সা দেওয়া হয়। ফলে ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে ঐ রোগীদের ঠাঁই মেলে ওয়ার্ডের মেঝে ও বারান্দায়। কুষ্টিয়া ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালে কুষ্টিয়া জেলার পাশাপাশি রাজবাড়ি, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা থেকে চিকিত্সা নিতে আসেন রোগীরা। এ অঞ্চলের মানুষের চিকিত্সায় সরকারি এই হাসপাতালটি একমাত্র ভরসা। কিন্তু ডাক্তার সংকটে চিকিত্সা ব্যাহত হচ্ছে দারুণভাবে। হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীসহ স্থানীয়রা হাসপাতালের এই দুরবস্থা অবিলম্বে দূর করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডাক্তার নুরুন নাহার বেগম সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, ডাক্তার-কর্মচারী পদায়নের জন্য প্রতি মাসেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হচ্ছে। তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যথাসম্ভব রোগীদের চিকিত্সা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
