ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন মৌসুম শুরু হচ্ছে আগামী মাসে। ২০১৯-২০ মৌসুমের শুরুতেই মাঠে গড়াবে জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল)। ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রধান প্রথম শ্রেণির এই প্রতিযোগিতা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ৭ অক্টোবর।
এনসিএলকে ঘিরে বিভাগীয় দলগুলোর কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। তবে ক্রিকেটাররা বসে নেই। নিজেদের মতো করে ক্রিকেটাররা প্রস্তুত হচ্ছেন এনসিএলের জন্য। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামের ইনডোরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা অনেক ক্রিকেটার নিজেরাই বিপ টেস্ট দিয়েছেন। বিসিবি একাডেমিতে অনুশীলনও করেছেন তারা।
গত মৌসুম থেকেই জাতীয় দলের নির্বাচকরা নিয়ম করে দিয়েছেন, এনসিএলের আগে ক্রিকেটারদের ফিটনেস টেস্ট হবে। দিতে হবে বিপ টেস্ট। গত বছর বিপ টেস্টের স্কোর ৯ রাখা হয়েছিল। এই বছর থেকে এনসিএল খেলতে হলে বিপ টেস্টে ১১ স্কোর তুলতে হবে ক্রিকেটারদের। যার কারণেই বিভাগীয় দলগুলোর আগে ক্রিকেটাররা নিজেরাই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন।
জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের জন্য ফিটনেস ধরে রাখা কঠিন কর্ম। আর ৩০ পেরিয়ে যাওয়া ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও বিপ টেস্টে ১১ স্কোর তোলা কষ্টসাধ্য। যার কারণে এবার এনসিএলে দেখা যাবে না অনেক পুরোনো মুখকে। আবার অনেকে নিজে থেকেই সরে দাঁড়াচ্ছেন।
বিসিবি একাডেমি মাঠে গতকাল অভিজ্ঞ এক ওপেনার বলছিলেন, এবার ভাই ১১ তুলতে হবে। আমরা যারা ৩০ পেরিয়ে গেছি, তাদের জন্য এটা কঠিন। আবার নিয়ম হয়েছে, ১১ স্কোর না হলেই বলা হবে, ধন্যবাদ। তাই নিজেই খেলার চিন্তা বাদ দিয়েছি।
গতকাল একাডেমি মাঠে মোহাম্মদ আশরাফুল, ইলিয়াস সানি, মার্শাল আইয়ুব, আরাফাত সানি, সোহরাওয়ার্দী শুভ, মেহেদী মারুফ, রনি তালুকদার, নাদিফ চৌধুরী, রকিবুল হাসান, নাজমুল ইসলাম অপু, জুবায়ের হোসেন লিখন, শুভাগত হোমরা অনুশীলন করেছেন।
অনুশীলনের পর বিপ টেস্টের স্কোর সম্পর্কে আশরাফুল বলেছেন, ‘বিপ টেস্টের যে মার্কটা দেওয়া হয়েছে। আগে ছিল ৯, এবার ১১ দেওয়া হয়েছে। এটা আমাদের জন্য ডমেস্টিকে যারা খেলছি। সবার মধ্যে একটি আলোচনা হচ্ছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট যারা খেলছি, সবাই যদি সুযোগ-সুবিধা পেত অফ সিজনে তাহলে ১১ দেওয়া কোনো ব্যাপারই না। গত বছর আমি ১১.৫ পেয়েছিলাম। ঐ সুযোগ-সুবিধাটা কিন্তু আমরা পাই না।’
এই বিপ টেস্ট তরুণদের জন্য সহজ হলেও অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা বিপাকে পড়তে পারেন। আশরাফুলের বয়স এখন ৩৫। কন্ডিশনিং ক্যাম্প হলে এই স্কোর সমস্যা হতো বলে মনে করেন বেশিরভাগ ক্রিকেটার।
গতকাল আশরাফুল বলেছেন, ‘যারা তরুণ তাদের জন্য সহজ হবে। বয়স ৩৫ হয়ে যাওয়ার পরও আপনি যদি ১১ চান সেটাতো একটু কষ্টকরই। আমরা যেহেতু পেশাদার ক্রিকেটার, বেতনভুক্ত ক্রিকেটার। যেটাই বলবে সেটাই করার চেষ্টা করব। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে ১১ দিতে হলে ননস্টপ ১২-১৩ মিনিট রানিং করতে হবে। স্লো হতে পারে সেটা ফাস্টও হতে পারে। এই জিনিসটা আমরা যদি নিয়মিত অনুশীলন করতে পারি এক মাস তাহলে এটা করা সম্ভব। বয়স কোনো ব্যাপার না।’
আগামী ১ অক্টোবর হতে পারে এনসিএলের জন্য বিপ টেস্ট। তার আগে নিজেদের তৈরির চেষ্টাই করছেন ক্রিকেটাররা। গতকাল শুভগত হোম বলেছেন, ‘আমাদের মতো যারা এখন জাতীয় দলের বাইরে আছি, তাদের জন্য এটি একটু কঠিন, কারণ আমরা কোনো ক্যাম্প করতে পারছি না। শেষ মুহূর্তে জাতীয় লিগ শুরু হওয়ার আগে হয়তো ৫-৭ দিনের একটি ফিটনেস ট্রেনিং হয়। সেটি দিয়ে কতটা উন্নতি করা যাবে আমি জানি না। তবে আমরা চেষ্টা করছি এই সময়ের মধ্যে যতটা উন্নতি করা যায়।’
