জলবায়ু ঝুঁকিতে অস্তিত্বের হুমকিতে বাংলাদেশ

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:০৮

অবিলম্বে পৃথিবীর সব দেশকে জলবায়ু চুক্তি মানতে হবে। কার্বণ নিঃসারণের মাত্রা কমিয়ে আনতে হবে। ধনী ও উন্নত দেশের লাগাতার ভোগ বিলাসী জীবন পদ্ধতি বদলাতে হবে বলে দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা আরো বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশ ও কোম্পানিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও প্রণোদনা দিতে হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী গ্রামীণ ও গরিব জনগণের অভিযোজন কৌশলকে গুরুত্ব দিতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের সামনে আয়োজিত সংহতি সমাবেশ থেকে বক্তারা এ দাবি জানান। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বারসিক যৌথভাবে এই সংহতি সমাবেশ ও শোভাযাত্রার আয়োজন করে।

 সংহতি সমাবেশে বস্তিবাসী কিশোরী তানিয়া আক্তার সীমা বলে, আমরা বস্তিতে থাকি, অত কিছু বুঝি না। কিন্তু আমরা জানি বড়ো লোক আর বড়ো দেশগুলো আমাদের দেশের পরিবেশ নষ্ট করে। আমরা ঐ দেশগুলোর শাস্তি চাই। আমাদের দেশটা যেন ধনী দেশগুলোর জন্য ধ্বংস না হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বড়ো ক্ষতির শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ। জলবায়ু ঝুঁকিতে সবচেয়ে অস্তিত্বের হুমকিতে পড়েছে আমাদের দেশ। এই ঝুঁকি থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রয়োজন বিশ্বব্যাপী এই আন্দোলনের সাথে আমাদের আরো একাত্ম হওয়া। তাই আমাদের আরো উচ্চকিত হয়ে এই আন্দোলনে শরিক হতে হবে। উন্নত দেশগুলো তাদের নিজেদের স্বার্থে এক থাকছে আর তাই আমাদেরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে একটি সর্বপ্রাণবাদী আন্দোলনে, জলবায়ু আন্দোলনে।

তারা আরো বলেন, হঠাত্ সুইডেনের পার্লামেন্টের সামনের ফুটপাথে প্ল্যাকার্ড হাতে বসে পড়ে একটি মেয়ে। একাধিক অভিযোগ তার। সঙ্গে দাবিও। তার অভিযোগ, বড়োরা কেউ চায় না ছোটোরা ভালো থাকুক। সুইডেনের পার্লামেন্টের সামনে পোস্টার হাতে দাঁড়ানো এক কিশোরীর ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল পৃথিবীর কোণায় কোণায়। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী পরিবেশ বাঁচাতে সুইডেন যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণ করতে না পারায় রাষ্ট্রনেতাদেরই দায়ী করেছিল গ্রেটা থুনবার্গ নামে ঐ কিশোরী। তারপর থেকে প্রতি শুক্রবার সকাল হলেই গ্রেটা চলে যেত সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে। বসে থাকত। দুই-তিন শুক্রবার যাওয়ার পর গ্রেটা আর একা রইল না। সমবয়সি আরো কিছু বন্ধু জুটে গেল পার্লামেন্ট স্ট্রিটে। সপ্তাহ এগলো। বাড়তে থাকল সংখ্যা। তৈরি হল নতুন সংগঠন ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’।  তার ডাকেই পরিবেশ বাঁচাতে জোট বেঁধেছে পৃথিবী। একেবারে রাস্তায় নেমে। এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে গ্রেটা। মাত্র ষোলো বছর বয়সে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে গ্রেটা ও তার ৬০ জন বন্ধু সোশ্যাল মিডিয়ায় রাস্তায় নামার ডাক দিল। তারিখ ঠিক হল ১৫ মার্চ, শুক্রবার। স্কুলে না গিয়ে পৃথিবী বাঁচাতে রাজপথে নামার ডাক। স্লোগান একটাই- ‘আমাদের বাঁচতে দাও, পৃথিবীকে বাঁচতে দাও। আমাদের ভবিষ্যত্ সুরক্ষিত কর।’ এবার পৃথিবীর ৪০০ শহরে পালিত হবে ‘জলবায়ু ধর্মঘট’ বা ‘ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ এবং আন্দোলনকারীর সংখ্যাটা কোটি ছাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ। পবা’র সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল এর সঞ্চালনায় সংহতি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ডিয়াকোনিয়ার প্রতিনিধি খোদেজা সুলতানা লোপা, বারসিকের পরিচালক সৈয়দ আলী বিশ্বাস, মো. জাহাঙ্গীর আলম, সুবন্ধন এর মো. হাবিবুর রহমান, এস আর এস এর অ্যাড হাসিনা খানম, সেভ দ্য রিভারের শাকিল রহমান প্রমুখ।