গ্যাস বিদ্যুত্সহ পরিসেবা ব্যবহারের ওপর রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ভ্যাট অব্যাহতি পায়। তবে একই সংযোগের মিটার যদি রপ্তানিবিহীন প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হয়, তবে পুরো বিদ্যুত্ বিলের উপর ভ্যাট আদায় করা হবে। অর্থাত্ এক্ষেত্রে কোন ধরনের অব্যাহতি দেওয়া হবে না। এছাড়া রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ইপিজেড) কারখানাগুলো অব্যাহতি নিতে হলে ইপিজেড কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপ্রত্র প্রয়োজন হবে। রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট অব্যাহতি নেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের বেশ কয়েকটি শর্ত দিয়ে গতকাল একটি আদেশ জারি করা হয়। এতে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা নিতে হলে শর্তগুলো পরিপালনের বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়।
রপ্তানিমুখী কারখানাগুলো গ্যাস, বিদ্যুত্ ও পানিসহ এ জাতীয় পরিসেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পায়। কিন্তু এ সুবিধার আড়ালে অনেক কারখানা নানাভাবে এর অপব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই মিটারে একাধিক প্রতিষ্ঠানে সংযোগ দিয়ে বিদ্যুত্-গ্যাসের ব্যবহার করার মাধ্যমে এ সুবিধার অপব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিশেষত রপ্তানির সঙ্গে জড়িত নয়—এমন প্রতিষ্ঠান কিংবা অফিস বা বাসাবাড়িতেও একই সংযোগের আওতায় পরিসেবা ব্যবহার করে থাকে। এর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বেশকিছু সুনির্দিষ্ট শর্তের উল্লেখ করা হয়েছে এনবিআরের আদেশে। গতকাল বৃহস্পতিবার এনবিআরের ভ্যাট নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়।
আদেশে অব্যাহতি পাওয়ার শর্ত হিসেবে বলা হয়, কারখানা বা উত্পাদনস্থলে রপ্তানিকাজে ব্যবহূত মিটার নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারের কাছে আবেদন করতে হবে। যে মাসের বিল হতে আলোচ্য অব্যাহতি সুবিধা গ্রহণ করতে আগ্রহী সেই মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রাপ্তির পর কমিশনার সরেজমিনে রপ্তানি কার্যক্রম পরীক্ষা করে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর, ও দাখিলপত্র যাচাই করে সন্তুষ্ট হলে অব্যাহতি কার্যকর হওয়ার আদেশ জারি করবেন।
যেক্ষেত্রে সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে বিল ইস্যু না করে ইপিজেড কর্তৃপক্ষের নামে বিল ইস্যু করে, সেক্ষেত্রে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ সব প্রতিষ্ঠানের সেবার ব্যবহার ও বিলের পরিমাণ উল্লেখ করে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করবে। কমিশনার উক্ত প্রত্যয়নপত্র পত্রের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি সন্তোষজনক হলে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হবে। তবে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোনো অফিসে ব্যবহার করা বিলের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি হবে না। কোনো ক্ষেত্রেই রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের কারখানা বা উত্পাদনস্থল ছাড়া অন্য কোনো অফিসে ব্যবহূত সেবার ভ্যাট অব্যাহতি প্রযোজ্য হবে না।
আদেশে বলা হয়, বিভাগীয় কর্মকর্তা, অব্যাহতি সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করবেন। বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন বিষয়ে বা অন্য কোনো বিষয়ে অসামঞ্জস্যতা পাওয়া গেলে এ বিষয়ে কারণ দর্শানো নোটিশ ও শুনানি করা হবে। বিভাগীয় কর্মকর্তা কমিশনারের কাছে অব্যাহতি সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করলে কমিশনার শুনানি গ্রহণ করে তা বাতিলও করতে পারবেন।
