ক্যাসিনোকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরো ১০ থেকে ১২ জনের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এর মধ্যে ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদও রয়েছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগেরই লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া (জব্দ) হয়েছে। এসব ব্যক্তির কর ফাইল রয়েছে কি না, তার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কর ফাইলে দেখানো আয়ের সঙ্গে ব্যাংক লেনদেন কিংবা উদ্ধারকৃত অর্থের তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। কর ফাঁকি হলে জরিমানাসহ আয়কর আদায় করা হবে। আর উত্স দেখাতে ব্যর্থ হলে ঐ অর্থ রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা হবে। এছাড়া এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থপাচারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। ইতিমধ্যে অর্থপাচারের কিছু আলামত উদ্ধার হয়েছে। এনবিআর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
অভিযুক্তদের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য সন্ধানের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াও এর সত্যতা স্বীকার করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ইত্তেফাককে তিনি বলেন, আরো ১০ থেকে ১২ জনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে আমরা শিগগিরই ব্যাংকগুলোকে চিঠি পাঠাব। প্রায় ২০ জনের লেনদেনের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগেরই লেনদেন স্থগিত (জব্দ) করা হয়েছে। তাদের অর্থ পাচার হয়েছে কি না, তা এনবিআরের একাধিক গোয়েন্দা বিভাগ খতিয়ে দেখছে। কাদের হিসাব জব্দ করা হচ্ছে, এ বিষয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। তবে ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদ এ তালিকায় থাকতে পারেন। এর সঙ্গে কালো টাকারও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। অবশ্য এনবিআরের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, যাদের ব্যাংক হিসাবের লেনদেনের তথ্য চাওয়া হবে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই গণপূর্ত বিভাগের বর্তমান ও সাবেক প্রকৌশলী।
সিআইসির একটি সূত্র জানিয়েছে, গণপূর্তের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত প্রকৌশলী আব্দুল হাই, হাফিজুর রহমান এবং ফজলুল কবীর ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছে। সিআইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ইত্তেফাককে বলেন, এদের মধ্যে যাদের ট্যাক্স ফাইল নেই, তাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য বের করাও সময়সাপেক্ষ। এ জন্য আমরা ব্যাংকগুলোকে ১৫ কার্যদিবস সময় দিয়েছি। তথ্য বের হওয়ার পর দায়ীদের বিষয়ে বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ছয় বছর আগের ব্যাংক লেনদেনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আয়করের ওপর সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ জরিমানা করার বিধান রয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান ইত্তেফাককে বলেন, ক্যাসিনো সংশ্লিষ্ট এসব টাকা ব্যাংক কিংবা বিদেশেও পাচার হতে পারে। ধারণা করছি, প্রচুর টাকা কর ফাইলের বাইরে থাকতে পারে। তাদের কাছ থেকে জরিমানাসহ কর আদায় করা হবে। অপ্রদর্শিত অর্থ হলে তা কর ফাইলে স্থানান্তর করা হবে।
নিষিদ্ধ হচ্ছে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম আমদানি :
এদিকে দেশে ক্যাসিনো নিষিদ্ধ হলেও এর সরঞ্জাম আমদানি নিষিদ্ধ নয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি নীতি আদেশে নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় ক্যাসিনো কিংবা জুয়া খেলার সরঞ্জামের নাম নেই। ফলে আইনের এই ফাঁক গলে কেউ ক্যাসিনোর সরঞ্জাম কিংবা খেলার সরঞ্জাম নামে এগুলো আমদানি করেছে। এনবিআর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এসব সরঞ্জাম এখন থেকে খালাস বন্ধ করতে কাস্টম হাউজগুলোতে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমদানি নীতি আদেশে এগুলো নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আগামী সপ্তাহ নাগাদ প্রস্তাব পাঠাব।
