দেশে ৮৯ শতাংশ মানুষ জীবনযাপনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির শিকার। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ মানুষ কোনো প্রতিবাদ বা অভিযোগ করা ছাড়াই ঘুষ দিয়ে থাকেন। আর প্রতিবাদ করা ২৫ শতাংশের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ ফল পেয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার টিআইবির ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত ‘তথ্য অধিকার আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ:আইনের প্রথম দশকের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যত্ করণীয় শীর্ষক’ এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস ২০১৯ এবং তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর প্রয়োগে সকল অংশীদার, নাগরিক, সরকার, তথ্য কমিশনের স্বয়ংক্রিয় ভূমিকা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে এর অভীষ্ট অর্জন সম্ভব। জনগণকে এই আইন ব্যবহারে উত্সাহিত করার পাশাপাশি সরকার, সুশীল সমাজ, বেসরকারি সংগঠন এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, গবেষক অধ্যাপক আফসান চৌধুরী। প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডি নেট-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ড. অনন্য রায়হান এবং টিআইবির উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের।
আফসান চৌধুরী অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে ১০০ ব্যক্তির ওপর পরিচালিত জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন। যেখানে দেখা যায়, ৮৯ শতাংশ মানুষ তাদের জীবনযাপনে দুর্নীতির শিকার হয়ে থাকে। এছাড়া তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জানেন মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ। এর ২০ শতাংশ মানুষের পরিষ্কার ধারণা আছে। পাশাপাশি জরিপকৃতদের ৬৫ শতাংশ মনে করেন, তথ্যের ফলে দুর্নীতি কমে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক আন্দোলন তেমন কার্যকরী নয় কেননা জরিপকৃতরা বিশ্বাস করেন বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ দুর্নীতিবাজ। বরং সামাজিক আন্দোলনের প্রতি তাদের আস্থা বেশি। এছাড়া তথ্য অধিকার আইনকে পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে জরিপে। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি কর্মকাণ্ডে জনগণের অধিকার সচেতনতা ও অংশগ্রহণ করার পদ্ধতি হচ্ছে তথ্য অধিকার আইন। একে কার্যকর করার মাধ্যমে জনগণ সরকারকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে পারে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তথ্য অধিকার আইনের প্রথম দশকে বেশ ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে তা এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। যদিও অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য ১০ বছর খুব বড়ো একটা সময় নয়।
