পশ্চিমের জেলাগুলোতে ফের ধান-চালের দরপতন

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০৩

ক্ষতির মুখে পড়েছে চাষি ও ব্যবসায়ীরা

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

পশ্চিমের জেলাগুলোতে ফের ধান-চালের দরপতনে চাষি ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছে। বোরো ওঠার পর ভরা মৌসুমের চেয়ে এখন ধানের দাম কম। পাশাপাশি চালের দামও কমেছে। খুচরা বাজারে এক কেজি মোটা চাল ২৫-২৬ টাকায় মিলছে। তবে বাজারে মোটা চালের ক্রেতা কম। আউশ ধান ওঠার পর থেকে ধানের দাম মণপ্রতি ১০০ টাকা কমেছে। বর্তমানে মোটা ধান প্রতি মণ ৫২০ টাকা থেকে ৫৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার বোরো মৌসুমে পশ্চিমের যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৩২৭ হেক্টরে বোরোর চাষ হয়েছিল। বোরোর উত্পাদন হয়েছিল ১৬ লাখ ৩৫ হাজার টন (চাল)। এ হিসাবে ধান উত্পাদনের পরিমাণ ছিল সাড়ে ২৫ লাখ টন। এ বছর পশ্চিমের ৬ জেলায় আউশ ধানের চাষ হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩০৩ হেক্টরে। আউশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। বাজারে আউশ ধান উঠছে। বোরো ধান ওঠার পর মোটা ধান প্রতি মণের দাম ছিল সাড়ে ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা। মাঝারি সরু ধান প্রতি মণের দাম ছিল ৭০০ টাকা থেকে সাড়ে ৭০০ টাকা, মিনিকেট ধান বিক্রি হয় প্রতি মণ সাড়ে ৮০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা। আর বাসমতির দাম ছিল প্রতি মণ ৯০০ টাকা। বর্তমানে মাঝারি সরু ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৬০০ টাকা দরে। মিনিকেট ও বাসমতি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা থেকে সাড়ে ৮০০ টাকা মণ দরে।

ঝিনাইদহ জেলা অটো রাইসমিল মালিক সমিতির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তারা চাল ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি কেজি বাসমতি সাড়ে ৩৮ টাকা, মিনিকেট সাড়ে ৩৬ টাকা, মাঝারি সরু বি আর ২৮ চাল ২৭ টাকা এবং মোটা চাল ২৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। ঝিনাইদহের শৈলকুপা মোকামের ব্যবসায়ীরা পাইকারি বাসমতি প্রতি কেজি ৩৮-৩৯ টাকা, মিনিকেট ৩৭ টাকা, বি আর-২৮ চাল ৩১ টাকা ও মোটা চাল প্রতি কেজি ২৫ টাকা দরে বিক্রি করছে। বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহ বাজারে বাসমতি প্রতি কেজি ৪২ টাকা থেকে ৪৮ টাকা, মিনিকেট ৪০ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৩৬ টাকা ও মোটা  চাল ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। ব্যবসায়ী অঞ্জন সাহা জানান, ঝিনাইদহের আশপাশের জেলা কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও যশোরে প্রায় একই দামে চাল কেনাবেচা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা মোবাইল ফোনে প্রতিদিন আশপাশের আটো রাইসমিল মালিক ও পাইকারি আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে বাজার জেনে নেন।

কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন প্রধান জানান, বোরো ধান ওঠার পর মিনিকেট ও বাসমতি ধান প্রতি মণের দাম ছিল ৮৭০ টাকা। এ ধান কিনে শুকানোর পর মণপ্রতি দুই কেজি করে কমেছে। এর সঙ্গে অন্যান্য খরচ আছে। বর্তমানে মিনিকেট ও বাসমতি ধান প্রতি মণ ৮৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মণপ্রতি মিলমালিক ও ব্যবসায়ীদের ৭০ টাকা করে লোকসান হচ্ছে বলে তিনি জানান। বোরো মৌসুমে ধান ওঠার পর তারা বাসমতি প্রতি কেজি ৪৫ টাকা, মিনিকেট ৩৯ টাকা ও বিআর-২৮ চাল ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করেন। এখন বাসমতি ৪২ টাকা, মিনিকেট ৩৯ টাকা ও বিআর-২৮ চাল ৩৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অনেক  মিলমালিক মোটা টাকা লোকসানের মুখে পড়বে।

এদিকে মাস দেড়েক পর আমন ধান কাটা শুরু হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক মোহম্মদ অলি জানান, পশ্চিমের ছয় জেলায় ৪ লাখ ৪১ হাজার ৫৬০ হেক্টরে রোপা আমন চাষ হয়েছে।  ধানের অবস্থা ভালো বলে তিনি জানান।