কাপ্তাই থেকে উত্পাদিত সৌর বিদ্যুত্ যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৫৭

কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা

কাপ্তাই প্রজেক্ট তথা কর্ণফুলী পানি বিদ্যুত্ কেন্দ্র এলাকায় কাপ্তাই প্রধান বাঁধের নিচে গত ৬০ বছর ধরে অব্যবহূত অবস্থায় ছিল ২০ একর জমি। কাপ্তাই বাঁধের ওপর দিয়ে যাতায়াতের সময় জায়গাটি সবার চোখে পড়তো। বছরের পর বছর ২০ একর জমি এভাবে পড়ে থাকলেও এতদিন এই জায়গাটিকে কাজে লাগানোর কথা কেউ ভাবেনি। বর্তমান সরকার প্রায় দুই বছর আগে অলস পড়ে থাকা ২০ একর জমিতে সাত দশমিক  চার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর বিদ্যুত্ প্রকল্প বসানোর পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা গ্রহণের মাত্র দুই বছরের মাথায় সৌর বিদ্যুত্ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়। ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সৌর বিদ্যুত্ প্রকল্পের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন।

সৌর শক্তির সাহায্যে সাত দশমিক চার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর বিদ্যুত্ প্রকল্প গত ১১ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনের পর হতে এই প্রকল্প থেকে সৌর বিদ্যুত্ উত্পন্ন হচ্ছে। জানা গেছে, এটি দেশের একমাত্র পরিবেশসম্মত সরকারি সৌর বিদ্যুত্ প্রকল্প। এই প্রকল্প থেকে উত্পাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করা হচ্ছে। কাপ্তাই থেকে উত্পাদিত সৌর বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন হচ্ছে। আর এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব এই সৌর বিদ্যুত্ সারাদেশে যাচ্ছে। সূত্র জানায়, এশীয় উন্নয়ন বোর্ডের আর্থিক সহযোগিতায় সৌর বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি নির্মিত হয়। এতে খরচ হয় মোট ১১১ কোটি টাকা।

গতকাল শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ২০ একর জায়গায় সারি সারি সৌর প্যানেল বসানো রয়েছে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এ টি এম আব্দুজ্জাহের জানান, এই বিদ্যুত্ কেন্দ্রে মোট সৌর প্যানেল রয়েছে ২৪ হাজার ১২টি। ইনভার্টার রয়েছে ২৪০টি। প্যানেলগুলোর মেয়াদ থাকবে ২৫ বছর। আর ইনভার্টারের ওয়ারেন্টি থাকবে ১০ বছর। মেয়াদ ও ওয়ারেন্টি শেষে প্যানেল ও ইনভার্টার পরিবর্তন করে উত্পাদন সচল রাখা যাবে। সৌর বিদ্যুত্ প্রকল্পের উত্পাদন ক্ষমতা সাত দশমিক চার মেগাওয়াট হলেও আবহাওয়া অনুযায়ী উত্পাদনের তারতম্য হতে পারে।

পরিবেশসম্মত জ্বালানি ব্যবহার করে বছরে এক কোটি ইউনিট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা যাবে এই সৌর বিদ্যুত্ কেন্দ্র থেকে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এ টি এম আব্দুজ্জাহের জানান, সৌর বিদ্যুত্ কেন্দ্র থেকে উত্পাদিত বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের ঘটনা বাংলাদেশে এটিই প্রথম। এ ধরনের বিদ্যুত্ কেন্দ্রে উত্পাদন খরচ অনেক কম।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৯ জুলাই চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সৌর বিদ্যুত্ প্রকল্প নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সৌর বিদ্যুত্ প্রকল্প থেকে যে সাত দশমিক চার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ পাওয়া যাবে তাতে উত্পাদন খরচ হবে অত্যন্ত কম। এছাড়াও কর্ণফুলী পানি বিদ্যুত্ কেন্দ্র থেকে পাঁচটি জেনারেটরের মাধ্যমে যে ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পন্ন হচ্ছে তাতেও উত্পাদন খরচ কম হচ্ছে বলে সূত্র জানায়।

জানা গেছে, সৌর বিদ্যুত্ কেন্দ্রের মূল ঠিকাদার চীনের জেডটিই করপোরেশন। উদ্বোধনের পর সৌর বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি প্রথম দুই বছর দায়িত্ব থাকবে জেডটিইর কাছে। পরে এর সার্বিক দায়িত্ব নেবে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুত্ কেন্দ্র। সরেজমিনে দেখা গেছে, চীনের জেডটিই করপোরেশনের প্রকৌশলীরা সৌর বিদ্যুত্ কেন্দ্রে বসে অফিস করছেন। উত্পাদন চলাকালীন সময় বিচ্যুতি ধরা পড়লে তাত্ক্ষণিক সমাধান দিচ্ছেন চীনের জেডটিই করপোরেশনের প্রকৌশলীরা। তবে তাদের সঙ্গে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুত্ কেন্দ্রের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারাও কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের সর্ববৃহত্ সৌর বিদ্যুত্ প্রকল্প পরিদর্শনের জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক কাপ্তাই ভ্রমণে আসছেন।