ফ্রান্সে গণবিক্ষোভের পর এবার ছাত্রদের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার দেশের অনেক স্কুলে ধর্মঘট পালন করা হয়। যদিও গতকাল আগের মতো সহিংসতা ছিল না। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সমঝোতায় বসতে যাচ্ছেন। গতকাল প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার কথা। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে গত চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে। খবর সিএনএনের
গতকাল সকালে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ ব্যবসায়ী নেতা এবং ট্রেড ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ তার ভাষণে ঐক্যের ওপর জোর দিতে পারেন বলে জানা গেছে। গত চার সপ্তাহে প্রায় আড়াই হাজার বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার কিংবা আটক হয়েছে। গতকাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দানা বাধে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশের ১২০টি স্কুলে শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে। এর মধ্যে ৪০টির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল। সমপ্রতি শিক্ষা খাতে সংস্কারের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পদ্ধতি বাতিল করার নীতি গ্রহণ করে।
গতকাল মাত্রা কমলেও গত চার সপ্তাহের বিক্ষোভে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ফ্রান্স। ইতোমধ্যে দেশটির অর্থমন্ত্রী ব্রুনো লে মেরি বলেন, এই বিক্ষোভ আমাদের বাণিজ্য এবং অর্থনীতির জন্য দুর্যোগ বয়ে আনবে। জ্বালানি কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ১৭ নভেম্বর থেকে চলছে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় সহিংস বিক্ষোভ। সহিংসতায় এখন পর্যন্ত তিনজন প্রাণ হারিয়েছে। আন্দোলনের মুখে সরকার জ্বালানি কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি বাতিল করলেও অন্যান্য ইস্যুতে বিক্ষোভ অব্যাহত। বিক্ষোভকারীরা সরকারকে ন্যুনতম পেনশন, কর ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন, অবসরের বয়সসীমা কমানোসহ ৪০টিরও বেশি দাবি করেছে।
