পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে হাসপাতালের দুর্দশা

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:১২

দেশব্যাপী সরকারি হাসপাতালগুলির অবস্থা অপেক্ষাকৃত সঙ্গিন। অধিকাংশ হাসপাতালে থাকেন না পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্সের ঘাটতি রহিয়াছে, ঔষধ দেওয়া হয় না ঠিকমত; সার্বিকভাবে পরিষেবার মান নিম্নমুখী। আমাদের মতো বিপুল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দেশে চিকিত্সাসেবা অনেকটাই সরকারের উপর নির্ভরশীল না হইয়া উপায় নাই। বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিত্সাসেবা ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণ জনগণ অনেকাংশে সরকারি হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। সেইজন্য সরকারের দিক হইতে চিকিত্সার মান বাড়াইতে প্রচেষ্টা দেখা যায়। বিশেষ করিয়া প্রধানমন্ত্রী নানা সময়ে ডাক্তারদের প্রতি হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করিয়াছেন; কিন্তু অবস্থার তেমন একটা পরিবর্তন হয় নাই। তেমনই অবস্থা পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের হাসপাতালগুলির। সেখানেও ডাক্তার, নার্সের ঘাটতি, ঔষধে অনিয়ম। অথচ ১৯৬৮ সালে হাসপাতালগুলি কর্মচারীদের চিকিত্সাসেবা দেওয়ার জন্য নির্মিত হয়। এখন হাসপাতালগুলি চিকিত্সাসেবা তো দূরের কথা, নিজেরাই বিভিন্ন সমস্যায় জর্জড়িত হইয়া পড়িয়াছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ছয়টি হাসপাতালের মধ্যে রাজশাহীতে ২০ শয্যা, নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৯০ শয্যা, লালমনিরহাটে ৩০ শয্যা, পার্বতীপুরে ১৬ শয্যা, পাবনার পাকশীতে ৮০ শয্যা এবং সান্তাহারে ৮০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল রহিয়াছে। হাসপাতাল থাকিলেও রোগীরা নিয়মিত চিকিত্সাসেবা লইতে আসেন না। চিকিত্সক সংকট আর ঔষধ না পাওয়ার অভিযোগ রোগীদের। এই অঞ্চলে ছয়টি হাসপাতালে ৩৪ জন চিকিত্সক থাকার কথা থাকিলেও চিকিত্সক আছেন মাত্র আট জন। সিনিয়র নার্স থাকার কথা ৩০ জন; কিন্তু আছেন মাত্র ২০ জন। ফার্মাসিস্ট ৩৩ জনের বিপরীতে ১৫ জন। ফলে এইসব হাসপাতালে রোগীরা চিকিত্সাসেবা পাইতেছেন না, ঔষধ নিয়াও রহিয়াছে অভিযোগ। অথচ এই হাসপাতালগুলির জন্য বত্সরে বরাদ্দ দেওয়া হয় কোটি টাকার ঔষধ। যেইগুলি রোগীদের নামে বিতরণ করাও হয় কাগজে কলমে। রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চলের হাসপাতালগুলির জন্য ২০১৮-২০১৯ বত্সরে মোট ৮৩ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৯ টাকার ঔষধ ক্রয় করা হইয়াছে। ইহার মধ্যে রাজশাহীকে দেওয়া হয় ২০ শতাংশ ঔষধ। যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ১০৫ টাকা; কিন্তু এই ঔষধ রোগীরা পাইতেছেন না বলিয়া অভিযোগ। রোগীদের নামে ঔষধ লিখিয়া নিজেদের লোকের মধ্যে বিতরণ করিয়া দিতেছেন একশ্রেণির অসাধু কর্মচারী। অভিযোগ রহিয়াছে, ইহার সহিত উপর শ্রেণির কতিপয় কর্মকর্তা ও ডাক্তাররাও জড়িত। ফলে এই যে দুষ্টচক্র গড়িয়া উঠিয়াছে ঔষধকে কেন্দ্র করিয়া তাহা ভালোমতো অনুসন্ধানের দাবি রাখে এবং যাহারা এই অন্যায় কাজের সহিত যুক্ত তাহাদের উপযুক্ত শাস্তির বিধান করিতে হইবে।

স্বাস্থ্যসেবা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেমন টিকাদান কর্মসূচিতে সরকারের সফলতাও রহিয়াছে। আমরা চাই, সার্বিকভাবে দেশে চিকিত্সাসেবার মান আরো উন্নত হইবে। এইক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতার পাশাপাশি ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্ট— সবাইকে আগাইয়া আসিতে হইবে।