শৈশব থেকে শেখা

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:১৩

মো. শফিকুল ইসলাম

শৈশব যে জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এই সময়ে জীবনের নানামুখী সুন্দর মুহূর্তগুলো ছড়িয়ে থাকে। স্কুল ফাঁকি দিয়ে নদীর ধারে লাটিম খেলা কিংবা বাবার কাছে ধরা খেয়ে বকা খাওয়া—সবই স্মৃতি হয়ে উঁকি দেয়। আর এই ছোটো ছোটো স্মৃতিকে পুঁজি করেই আমরা বেঁচে থাকি, পথ চলতে শুরু করি। দুরন্তপনার সেই শৈশবে একটা কোমল হূদয় নিয়ে আমরা বেড়ে উঠি, যে হূদয়ে নেতিবাচকতার তুলনায় ইতিবাচকতাই বেশি। এই কোমলতা আর ইতিবাচক মনোভাবই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শক্তি। এ দুই শক্তিই পারে আমাদের অনাগত ভবিষ্যেক সুন্দর করতে। আমরা যে যার জায়গা থেকে চিন্তা করলেই বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

ধরুন শৈশবের কোনো এক মেঘলা দিনে আপনি স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছেন। সঙ্গে আপনার বন্ধু। স্কুল থেকে আপনার বাড়ি বেশ খানিকটা দূরে। হঠাত্ অর্ধেক রাস্তায় ঝুম বৃষ্টি নামল। আশপাশে ঠাঁই পাওয়ার মতো কোনো দোকানপাট কিংবা বাড়িঘর নেই। ঠিক এই পরিস্থিতিতে আপনি কী করতেন? আমি যদি ভুল না করি—বইগুলো জামার নিচে লুকিয়ে  রাস্তার পাশ থেকে তোলা কলাপাতা কিংবা কচুপাতার নিচে গা বাঁচিয়ে দুই বন্ধু বাড়ি ফিরতেন। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, রাস্তার পাশ থেকে কলাপাতা কিংবা কচুপাতার বুদ্ধিটা নিশ্চয় দুজনের মাথা থেকেই আসত না। যে-কোনো একজনের মাথায় বুদ্ধিটা প্রথমে আসত। আবার বইগুলো জামার নিচে লুকানোর বুদ্ধিটাও হয়তো প্রথমে একজনের মাথা থেকেই আসত। দিন শেষে বুদ্ধিটা যার মাথা থেকেই আসুক না কেন, দুজনই তার ফল ভোগ করতেন। যদি আপনি একা হতেন আর আপনার মাথায় এসব বুদ্ধি না আসত, তাহলে হয়তো আপনার অবস্থা খারাপও হতো। আবার অন্যদিক থেকে ভাবলে আপনারা যদি সংখ্যায় দুইয়ের অধিক হতেন, তাহলে হয়তো নতুন কোনো আইডিয়া বের হয়ে আসত, যা আপনাদের সবার জন্যই মঙ্গলকর হতো। অর্থাত্, আমরা যদি পাশের লোকগুলোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে পারি, সেদিনকার বৃষ্টির হাত থেকে যেমন রক্ষা হয়েছিল। তেমনি জীবনপথের নানা চড়াই-উতরাইও পার করা সম্ভব।

বিষয়গুলো খুবই ছোটো হতে পারে। কিন্তু ভেবে দেখলে এই ছোট্ট বিষয়গুলোই জীবনের মোড় বদলে দেয়। জীবনের রসকে সেই শৈশবের মতো করেই উপভোগ করতে হবে। মানুষের বয়স বাড়ে, দেহ বাড়ে। তবু একটা ছোট্ট শিশু মানুষের মধ্যে থেকে যায়। বুড়ো বয়সে যখন করার কিছুই থাকে না, তখন আবার সেই শিশুটা জেগে ওঠে। খেয়াল করে দেখবেন, বয়স্ক মানুষগুলো কেমন সবার সঙ্গে মিশে যায়। ছোটো, বড়ো, মাঝ বয়সি সবার সঙ্গেই। ভালো থাকতে হলে শৈশব আর বুড়ো বয়সে জেগে ওঠা এই শিশুটিকে যৌবনেও জাগিয়ে তুলতে হবে। শৈশবে যেমন হুটহাট বন্ধুদের সঙ্গে সিনেমা দেখা, বনভোজন  কিংবা ব্যাট-বল নিয়ে মাঠে নেমে পড়ার মতো ঘটনা ঘটত। যৌবনে কাজের ফাঁকে ফাঁকে কিছু সময় সেই শৈশবে ফিরে গেলে মন ভালো হয়ে যায়। জীবন রস ফিরে পাই। জেগে ওঠে বেঁচে থাকার স্পৃহা। সবই শৈশব থেকে শেখা।

n লেখক :শিক্ষার্থী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়