মাত্র ৬৫ মিটারে জিও টেক্সটাইল ডাম্পিং!
জাহাঙ্গীর আলম, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের তিন কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও মাত্র ৬৫ মিটার রক্ষায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬ হাজার বালুভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলছে পাউবো। স্থানীয়দের অভিযোগ সরকারের অর্থ ব্যয় হলেও এটা ভাঙন রক্ষায় কোনো কাজে আসবে না। গত ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন কালে পাউবো কর্তৃপক্ষকে ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিলে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জানা গেছে, উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের পালের ভিটা, নয়াডারা, কামারটারী, দাগারকুটি, হাতিয়া গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে গত তিন মাসের ব্যবধানে পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর ও কয়েকশ একর আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে যায়। পাউবো ভাঙন রোধে কোনো পদক্ষেপ না নিলেও প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে নড়েচড়ে বসে। সে মোতাবেক গত বৃহস্পতিবার ভাঙন কবলিত প্রায় তিন কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র ৬৫ মিটার স্থানে ৬ হাজার বালুভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু হয়। পাউবো কর্তৃপক্ষের ভাঙন রোধের এমন উদ্যোগে ক্ষুব্ধ ব্রহ্মপুত্র পাড়ের মানুষজন।
সরেজমিনে গিয়ে কথা হয়, পালে ভিটা গ্রামের ছপিয়াল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘তোমরায় কন, কোতদূর ভাংবের নাগছে, আর ওমরা অলপে এখনাত বস্তা ফেলায়। খালি বস্তাগুলা নদীত ভাসি যাইবে বাহে। কামের কাম কিছুই হবার নয়’। ঐ গ্রামের ভবেশ পাল, প্রফুল্ল পাল, মোজাহার আলী, ইদ্রিস আলীসহ অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, এ কাজ ভাঙন রোধে কোনো কাজে আসবে না। আমাদের সঙ্গে তামাশা করা হচ্ছে।
হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, ভাঙন কবলিত তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও বালুভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে মাত্র ৬৫ মিটারে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মহোদয় ভাঙন রোধের নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর করছে না পাউবো।
উলিপুর পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ৬৫ মিটার প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬ হাজার জিও টেক্সটাইল ডাম্পিং করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে প্রকল্প পাওয়া গেলে বাকি এলাকায় ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
